ভোলা প্রতিনিধি ঃ ভোলায় গভীর রাতে স্বামীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার দায়ে দ্বিতীয় স্ত্রী নুরনাহার বেগমকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন জেলার এডিশনাল জজ আদালত-২ এর বিচারক।
১৮ আগস্ট মঙ্গলবার দুপুরে ভোলার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২-এর বিচারক মো. এনায়েত উল্লাহ এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী এডভোকেট অতীন্দ্রনাথ ব্যানার্জি ও অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান বাচ্চু।
মামলার নথি ও আইনজীবী সূত্রে জানা যায়, ভোলা সদর উপজেলার উত্তর দিঘলদী ইউনিয়নের জয়গুপি গ্রামের ঝড়ু মুন্সি বাড়ির মো. ফরহাদ হোসেন টিটব দুইটি বিয়ে করেন। প্রথম স্ত্রী ও মামলার বাদী মাহামুদা বেগমের সঙ্গে তিনি নিজ বাড়িতে বসবাস করতেন। দ্বিতীয় স্ত্রী নুরনাহার বেগম থাকতেন সদর উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের রুহিতা গ্রামে।
স্বামী দ্বিতীয় স্ত্রীর বাড়িতে নিয়মিত যাতায়াত ও খোঁজখবর না নেওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে প্রায়ই পারিবারিক বিরোধ দেখা দিত। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২১ সালের ২৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় নুরনাহার ফোন করে স্বামীকে তার বাড়িতে যেতে বলেন। ফরহাদ সেখানে গেলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ওই রাতের কোনো একসময় নুরনাহার ধারালো দা দিয়ে ফরহাদ হোসেন টিটবকে কুপিয়ে হত্যা করেন। পরে মরদেহের কিছু অংশ টুকরো টুকরো করে পাতিলে ভরে রাখেন তিনি।
পরদিন সকালে স্থানীয়রা নুরনাহারকে রক্তাক্ত অবস্থায় দা হাতে ঘরের দরজায় স্বামীর মরদেহের পাশে বসে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং নুরনাহারকে আটক করে।
এ ঘটনায় নিহত ফরহাদের প্রথম স্ত্রী মাহামুদা বেগম বাদী হয়ে ভোলা সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে মঙ্গলবার আদালত নুরনাহার বেগমকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।
বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট অতীন্দ্র লাল ব্যানার্জি জানান ২০২১ সালে আসামি অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় এবং পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড টি ঘটিয়েছে। যাহা পরবর্তীতে আসামির ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে প্রমাণিত হয়েছে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হয় রায়ের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করে ওই সিনিয়র আইনজীবী আরো বলেন, আদালতের এই ধরনের রায়ে ভোলায় পরিকল্পিত হত্যার ঘটনাগুলো নিয়ন্ত্রণে আসবে। ভোলার আদালতে প্রথম নারী আসামির বিরুদ্ধে এই ধরনের রায়ে অপরাধীর অপরাধ অনেকটা কমবে বলেও তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
ভোলা নিউজ / টিপু সুলতান
মন্তব্য করুন