উপজেলা প্রতিনিধি বোরহানউদ্দিন(ভোলা):
ভোলার বোরহানউদ্দিন হাসপাতালের চিকিৎসক পরিচয়দানকারী স্যাকমো (কম্পাউন্ডার) এর ভুল চিকিৎসায় তানভীর নামে আট বছর বয়সী শিশু পঙ্গত্ব বরণ করার অভিযোগ এর মামলায় স্থানীয় থানা পুলিশ অভিযুক্ত শফিকুল ইসলাম কে গ্রেফতার আদালতে প্রেরন করেছে।
মামলার বিবরণ ও ভিকটিম এর বাবা থেকে জানা যায়- উপজেলার ফুলকাচিয়া গ্রামের কৃষক মোসলেমের পুত্র তানভীর (৮)। বরিশালের চরমোনাই মাদ্রাসায় হেফজ বিভাগে পড়াশুনা করে। চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল সে মাদ্রাসা বন্ধে ছুটিতে আসে। ২২ এপ্রিল তার গায়ে জ্বর উঠে। পরের দিন তাকে বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তার দেখানোর উদ্দেশ্যে নিয়ে আসলে হাসপাতাল গেইটের সামনে আকিব মেডিকেলের মালিকের সাথে দেখা হয়। সে আমাকে একজন ভালো ডাক্তার দেখিয়ে দিবে বলে। তার দোকানের চেম্বারে নিয়ে যায় এবং অভিযুক্ত স্যাকমো (কম্পাউন্ডার) শফিকুল ইসলাম কে ডেকে আনার পর আমার ছেলে কে কিছু টেষ্ট করাতে বলেন। আহছানিয়া মেডিকেল সার্ভিসেস নামে একটি ডায়গনষ্টিকে টেস্ট করানো হয়। টেস্ট শেষে রিপোর্ট দেখে শফিকুল ইসলাম জানায় আমার ছেলের ডেঙ্গু হয়েছে। তিনি এন্টিবায়টিক চারটি ইনজেকশন প্রয়োগ করেন। ইনজেকশন প্রয়োগের কিছু সময় অতিবাহিত হওয়ার পরে আমার ছেলের গায়ে ছোট ছোট কালো বিচির মত উঠতে থাকে এবং অবস্থার অবনতি দেখে ভোলা সদর হাসপাতলে নিয়ে যাই। সেখান থেকে জরুরী ভিত্তিতে বরিশাল নিয়ে যেতে বলেন। বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজে নেয়ার পর সেখানকার ডাক্তাররা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে অক্সিজেনের সাহায্যে তানভীরকে জরুরি ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার জন্য বলেন। ঢাকায় নিয়ে প্রথমে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে গিয়ে ডাক্তার দেখাই। তানভীরের শারীরিক অবস্থার আরো অবনতি হয়ে পড়ায় কিওর স্পেশিয়ালাইজড হাসপাতালের আইসিউতে (ICU) আট দিন রাখে। শিশু হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে রেফার করলে বার্ন ইউনিটে আরো এক মাস দশ দিন চিকিৎসা শেষে অস্ত্রোপচার এর মাধ্যমে তানভীরের দুটি হাঁত এর কবজি ও একটি পা কেটে ফেলে। ঢাকা মেডিকেল এর ডাক্তার গণ তানভীর এর বোরহানউদ্দিনের স্যাকমো( কম্পাউন্ডার) কর্তৃক চিকিৎসা এর রিপোর্ট পর্যালোচনা করে তাকে যে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। তা ভুল ছিল বলে তাদের রির্পোটে উল্লেখ করে।
এ ঘটনায় বিচার চেয়ে ভুক্তভোগী শিশুর মা মোসা: মিতু ওই স্যাকমো(কম্পাউডার) ও দোকানীর বিরুদ্ধে ভোলার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলা করে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে স্থানীয় থানা পুলিশকে মামলা নিতে নির্দেশ প্রদান করে। আজ ১৯ এপ্রিল বেলা ১২টার দিকে স্থানীয় থানা পুলিশ অভিযুক্ত স্যাকমো(কমপাউন্ডার) শফিকুল ইসলাম কে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বোরহানউদ্দিন থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান বলেন আমরা আদালতের নির্দেশনা পেয়ে অভিযোগটি নিয়মিত মামলা হিসেবে গ্রহণ করি। যার নং: ১১/২৫, মামলায় গ্রেফতার করে অভিযুক্ত স্যাকমো(কমপাউন্ডার) শফিকুল ইসলাম কে গ্রেফতার পূর্বক আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। অভিযুক্ত আরেকজন আসামী দোকানী আকিব কে গ্রেফতারের অভিযান চলছে। যে কোন সময়ে তাকে গ্রেফতার করা হবে।
ভোলা নিউজ / টিপু সুলতান
মন্তব্য করুন