মো. সবুজ, ভোলা: ভোলার মেঘনা নদীর ভয়াবহ ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্থায়ী টেকসই বাঁধ নির্মাণের দাবিতে ভোলায় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কার্যালয় ঘেরাও ও সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দারা।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে ভোলা সদর উপজেলার শিবপুর, মেদুয়া ও ধনিয়া ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ ভোলার যুগীরঘোলে অবস্থিত ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয় ঘেরাও করেন।
এসময় তারা ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। এবং বিক্ষোভ করে ভোলা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় গিয়ে স্মারক লিপি প্রদান করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মেঘনার অব্যাহত ভাঙনে ভোলা শহর রক্ষা বাঁধসহ শিবপুর, মেদুয়া ও ধনিয়া ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা হুমকির মুখে পড়েছে। গত এক মাসে প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এতে শতাধিক পরিবার বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে এবং প্রায় ৫০০ একর ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। এছাড়া মাছঘাট, বাজার, মসজিদসহ বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙনের কবলে পড়েছে।
বিক্ষোভকারীরা জানান, ভাঙনের তীব্রতায় শিবপুর ও মেদুয়ার গুরুত্বপূর্ণ মাছঘাট, পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অসংখ্য বসতবাড়ি এবং ভোলা শহর রক্ষা বাঁধ এখন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বেসরকারিভাবে গড়ে ওঠা ইপিজেড প্রকল্পের জমিও ভাঙনের কারণে সংকুচিত হয়ে পড়েছে। তাদের দাবি, আর মাত্র ২০ মিটার ভাঙন অব্যাহত থাকলে শহর রক্ষা বাঁধও নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে ভোলার লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়তে পারেন।
এ সময় আন্দোলনরত এলাকাবাসী দ্রুত সিসি ব্লক ফেলে নদী ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন চললেও কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড ভোলা-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জিয়া উদ্দীন আরিফ বলেন, ‘ভাঙনকবলিত শিবপুর ও মেদুয়া এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চলছে। পাশাপাশি ভাঙন রোধে ভোলা সদরের ধনিয়া, কাচিয়া ও শিবপুর ইউনিয়নে প্রায় ৭৩০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন পেলেই স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।’
ভোলা নিউজ / টিপু সুলতান
মন্তব্য করুন