মোঃ আব্দুর রহমান হেলাল
ভোলা প্রতিনিধি ॥ভোলায় এক উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো দেশের অন্যতম জনপ্রিয় শিশু-কিশোর বিষয়ক পত্রিকা কিশোরকণ্ঠ আয়োজিত “কিশোরকণ্ঠ মেধাবৃত্তি পরীক্ষা–২০২৫”।
শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ১০টায় ভোলা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কালেক্টর স্কুল অ্যান্ড কলেজে একযোগে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
শিক্ষার্থীদের পদচারণায় সকাল থেকেই প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে পরীক্ষাকেন্দ্রগুলো। চতুর্থ থেকে দশম শ্রেণির প্রায় ১ হাজার ৬৫০ জন শিক্ষার্থী অংশ করে এবারের প্রতিযোগিতায়। শিশুদের চোখে ছিল উচ্ছ্বাস, মুখে ছিল আত্মবিশ্বাস—তাদের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা যেন পরিণত হয় এক প্রাণচঞ্চল মেলায়।
পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন ভোলা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. ইসরাফিল, চরফ্যাশন সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ উল্যাহ এবং কিশোর কণ্ঠ পাঠক ফোরামের ভোলা জেলা চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল আমিন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্র সচিব-১ এ্যাডভোকেট রহমত উল্লাহ সেলিম এবং কেন্দ্র সচিব-২ এ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন।
পরিদর্শন শেষে অধ্যাপক মো. ইসরাফিল বলেন, এই আয়োজন অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও চমৎকারভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আশা করি ভোলা জেলার শিক্ষার্থীরা এ উদ্যোগ থেকে অনেক উপকৃত হবে।”
প্রফেসর মোহাম্মদ উল্যাহ বলেন, এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস আরও বৃদ্ধি করবে।”
কিশোর কণ্ঠ ভোলা জেলা চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন শিক্ষার্থীদের মেধা ও নৈতিকতার বিকাশ, পাঠ্যাভ্যাস তৈরি এবং ছাত্রকল্যাণমূলক কাজে উৎসাহ দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই আয়োজন।
তিনি আরও বলেন “যারা
পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সহায়তা করেন দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দ, স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় সাংবাদিকরা। আয়োজক কমিটি সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জানায়, “প্রতি বছর এই আয়োজন শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা ছড়িয়ে দেয়। এটি এখন শুধু মেধা যাচাই নয়, বরং এক অনুপ্রেরণার উৎসবে রূপ নিয়েছে।”
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করে প্রত্যেক শ্রেণি থেকে ১৭ জন করে মোট ১১৯ জন শিক্ষার্থীকে বৃত্তি, ক্রেস্ট ও সনদ প্রদান করা হবে। পাশাপাশি সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী পাবেন একটি ল্যাপটপ পুরস্কার।
অভিভাবকরাও এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, কিশোরকণ্ঠের এমন আয়োজন শুধু প্রতিযোগিতা নয়, বরং সন্তানদের মধ্যে দায়িত্ববোধ, আত্মবিশ্বাস ও ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তুলছে।
একজন পরীক্ষার্থী জানায়, “আমরা সারা বছর এই পরীক্ষার অপেক্ষায় থাকি। এটি আমাদের নতুন করে শিখতে, চিন্তা করতে এবং নিজের দক্ষতা যাচাই করতে সাহায্য করে।”
ভোলা নিউজ / টিপু সুলতান
–
মন্তব্য করুন