নাজিম উদ্দিন চরফ্যাশন প্রতিনিধি
মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে টানা বৃষ্টি ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে উত্তাল হয়ে উঠেছে মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদী। ফলে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন চরফ্যাশনের নিম্নাঞ্চলের মানুষ। মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির কারণে নিম্নআয়ের ও খেটে খাওয়া মানুষরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
উপকূলীয় দ্বীপজেলা ভোলার চরফ্যাশনে দিনভর ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে টানা বৃষ্টি চলছে। নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। অন্যদিকে, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ভোলার বেড়িবাঁধ দীর্ঘদিনেও সংস্কার না হওয়ায় অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। এর ফলে বেড়িবাঁধের ভেতরে ও বাইরে হাজার হাজার ঘরবাড়ি ডুবে গেছে।
অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে চরফ্যাশন পৌর শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডসহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে উপজেলার মুজিবনগর, চরমাদ্রাজ, জাহানপুর, চরকুকরি, চরপাতিলা, সিকদার চর, ঢালচর, চরফারুকি, চরমানিকা, চরহাসিনা-সহ আশপাশের গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ। এসব এলাকার বাসিন্দারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এতে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও ব্যাহত হচ্ছে। খুব প্রয়োজন ছাড়া কেউ রাস্তায় বের হচ্ছেন না।
এদিকে, বৃষ্টির কারণে গ্রামাঞ্চলের রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে গেছে। কাদায় পরিণত হয়েছে চলাচলের পথ। ক্ষেতখামারে পানি জমে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। টানা বর্ষণে উপজেলাবাসীর জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে। দেখা দিয়েছে গো-খাদ্যের সংকট।
রাতদিন অতিরিক্ত বৃষ্টির ফলে খাল-বিলে কিছু অসাধু ব্যক্তি অবৈধভাবে জাল বসিয়ে মাছ ধরছে। ফলে পানি স্বাভাবিকভাবে নিষ্কাশন হতে পারছে না, বাড়ছে জলাবদ্ধতা।
দুপুরে চরফ্যাশন পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের হরীবাড়ি রোড এলাকার বাসিন্দা কামারুজ্জামান জানান, তিনি সকাল থেকে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখেছেন এবং অধিকাংশ এলাকা পানিতে ডুবে থাকতে দেখেছেন। এতে বহু মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
চরফ্যাশন পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সাংবাদিক শাহাবুদ্দিন সিকদার জানান, অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে তার ঘরের সামনেও হাঁটু পরিমাণ পানি জমেছে। পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা পেছিম আমুন এবং গৃহবধূ নাজমুন নাহার জানান, অবিরাম বৃষ্টির ফলে ওয়ার্ডের অধিকাংশ এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে এবং নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জনাব রাসনা শারমিন মিথি বলেন, পৌর শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে পানি নিষ্কাশনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে ড্রেনসমূহ সচল করে পানি অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভোলা নিউজ / টিপু সুলতান
মন্তব্য করুন