ফয়সাল আহমেদ, উপজেলা প্রতিনিধি বোরহানউদ্দিন(ভোলা):
মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় বাচ্চাদের উদ্ধার করতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ হয়ে ছয়দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে মাসুমা বেগম (৩৮) আয়া চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন। পারিবারিক ভাবে নিহত মাসুমা ২ সন্তানের জননী।
নিহতের গ্রামের বাড়ী ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার বড় মানিকা গ্রামে রুন্দি বাড়ীর পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
রবিবার (২৭ জুলাই) সকাল ৯টায় বোরহানউদ্দিন উপজেলার কুড়ালিয়া গ্রামে জানাযা নামাজ শেষে রুন্দি বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। নিহত মাসুমা ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার কুড়ালিয়া গ্রামের সেলিম রুন্দির স্ত্রী। তিনি মাইলস্টোন স্কুলের আয়া হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বিমান বিধ্বস্তের দিন তিনি বাচ্চাদের উদ্ধার করতে যেয়ে আগুনে দগ্ধ হন।
নিহতের স্বামী সেলিম জানান- তার স্ত্রী মাসুমা মাইলষ্টোন স্কুল এন্ড কলেজে আয়া পদে কর্মরত ছিলেন। মাসুমা যখন বাচ্চাদের নিয়ে বের হচ্ছিলেন। তখন ঘটনাটি ঘটে। ইচ্ছে করলে সে বাহিরে এসে নিজের জীবন রক্ষা করতে পারতেন। কিন্তু আমাদেরও বাচ্চা আছে সেই চিন্তা থেকে অন্য বাচ্চাদের বাঁচাতে গিয়ে মাসুমা আগুনে দগ্ধ হন। আমরা খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে গিয়ে জানতে পারি আগুন দগ্ধ হয়ে তার শরীরে ৯০ শতাংশ পুরে গিয়েছে। এরপর টানা ৬ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পরে ২দিন সন্তান কে এতিম করে আমাদের রেখে চলে গেছেন।
গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় বার্ন ও সার্জারী ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) তে ছয়দিন চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় মারা যান তিনি। গতকাল মধ্যরাতে মাসুমা বেগমের মরদেহ বহনকারী গাড়িটি কুড়ালিয়া গ্রামে পৌছে। তখন এলাকাবাসী ও স্বজনদের বুকফাটা কান্নায় চারপাশের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠে।
রবিবার সকালে বৃষ্টি উপেক্ষা করে বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হান-উজ্জামান সহ স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সকল ধর্মপ্রান মুসল্লিরা মাসুমার জানাযা নামাজে অংশগ্রহণ করেন।
ভোলা নিউজ / টিপু সুলতান
মন্তব্য করুন