ভোলায় ২’শ বছরের পুরনো বাংলাস্কুল পুকুর দখল!

বিশেষ প্রতিনিধি,

ভোলানিউজ.কম,

২০নভেম্ববর-২০১৭ইং,

ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাড়িঘরের বর্জ্য ফেলে ভরাট করে ফেলছে শ্যামাচরণ মুখপাধ্যায়ের সরকারি পুকুরটি। অবৈধভাবে পুকুর ভরাট করার অভিযোগে প্রশাসন দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে। ভোলা শহরের প্রাণকেন্দ্র বাংলাস্কুলের সামনে অবস্থিত শ্যামাচরণ মুখপাধ্যায়ের পুকুর (বাংলাস্কুল পুকুর) পাড়ে সরেজমিনে দেখা যায়, ৩-৪ জন ব্যক্তি পুকুরের একপাড়ে বাঁধাই করা ঘাটে গোসল করছেন। অন্য তিন পাড়ের চারিদিক নির্মাণ করা হয়েছে বেশ কয়েকটি বহুতল ভবন। এ সময় ঘাটলায় কথা হয় গোসল করতে আসা একজন সরকারি কর্মচারি ইউনুছের সঙ্গে। তার বাড়ি লালমোহন উপজেলায়। তিনি জেলা খাদ্য অফিসে মাস্টার রোলে ঝাড়ুদারের কাজ করেন।

ইউনুছ বলেন, “আমি প্রায় দুই বছর ধরে এই পুকুরে গোসল করি। পুকুরের চারদিক থেকেই বিভিন্ন ময়লা-আবর্জনা ফেলে পুকুরের পরিবেশ নষ্ট করা হচ্ছে।

এতে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে পুকুরের পানিতে। “  তিনি বলেন, “কাছাকাছি কোথাও কোনও পুকুর নেই। তাই, বাধ্য হয়ে ময়লা আবর্জনার পুকুরেই গোসল করতে হচ্ছে। যে যার মতো  করে এই পুকুরে ময়লা আবর্জনা ফেলে পানি দূষিত করছে। আমরা সরকারি চাকরি করি। আমরা আর কি করমু। “

গোসল করতে আসা অপর এক ব্যবসায়ী মামুন জানান, তার বাড়ি লক্ষ্মীপুরে। তিনি ভোলার নতুন বাজারে পোলট্রি ব্যবসা করেন। এই পুকুরে গোসল করেন প্রায় ছয় বছর ধরে। মামুন আশঙ্কা করছেন যেভাবে পুকুরের চারদিক থেকে ব্যবসায়ী দোকান, ক্লিনিক ও বাড়িঘরের ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। তাতে যে কোনও সময় ঐতিহ্যবাহী পুকুরটি ভরাট হয়ে যেতে পারে। সরকারি এই পুকুরটি ভরাট হয়ে গেলে তাদের গোসল করতে মারাত্মক অসুবিধা হবে।

তিনি বলেন, “প্রতিদিন শতাধিক মানুষ এই পুকুরে গোসল করেন। এ ছাড়া প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত আশপাশের গৃহিনীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ এই পুকুরের পানি ব্যবহার করছেন।

এ ব্যাপারে হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার্স ফোরাম ভোলা জেলা শাখার সভাপতি ও দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মেবাশ্বির উল্লাহ চৌধুরী বলেন, “প্রায় ২০০ বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী শ্যামাচরণ মুখপাধ্যায়ের সরকারি পুকুরের চারদিকে প্রভাবশালীরা ব্যবসায়ী দোকানঘর ও বাড়িঘর নির্মাণ করে দখল করে ফেললেও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

এ ব্যাপারে ভোলা সদর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) রুহুল আমিন বলেন, “সরকারি এই পুকুরটি ভরাট করার খবর পেয়ে আমরা পুকুরপাড়ে অভিযান চালিয়ে আল-আমিন ও সাইফুল নামের দুই ব্যাক্তিকে আটক করে ভোলা সদর থানায় সোপর্দ করেছি। ” তারা এক আওয়ামী লীগ নেতার মালিকানাধীন একটি ক্লিনিকের নির্মাণ  শ্রমিক বলে জানান এসিল্যান্ড।

(আল-আমিন এম তাওহীদ)