হাই কোর্টে কাগজের কজলিস্ট এখন ইতিহাস

রোববার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে নিউজ আপডেটে বলা হয়, আজ ৩ এপ্রিল থেকে হাই কোর্ট বিভাগের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে অনলাইন কজলিস্ট অনুসারে।

এ বিষয়ে হাই কোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার (প্রশাসন ও বিচার) সাব্বির ফয়েজ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, আগের ঘোষণা অনুসারে ৩ এপ্রিল থেকে হাই কোর্টে কাগজে কজলিস্ট ছাপা হয়নি।

“অনলাইন কজলিস্টে আদালতের কার্যক্রম পরিচালনায় কোনো ব্যাঘাত ঘটেনি। আশা করছি, সকলের সহযোগিতায় ডিজিটাল জুডিশিয়ারি বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।”

ফেব্রুয়ারি থেকে সুপ্রিম কোর্টের হাই কোর্টে ‘শুধু’ অনলাইনে কার্যতালিকা চালুর সিদ্ধান্ত হলেও ১৫ ফেব্রুয়ারি জানানো হয়, কাগজে ছাপানো কার্যতালিকা চালু থাকছে ৩১ মার্চ পর্যন্ত।

সেদিন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল সৈয়দ আমিনুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মার্চ মাসেও ছাপানো কার্যতালিকা পাওয়া যাবে।”

রেজিস্ট্রার জেনারেলই গত ২৮ জানুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, হাই কোর্টে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কাগজে ছাপা ‘কজলিস্ট’ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে কেবল অনলাইনে ওই তালিকা প্রকাশ করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনের পর সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে অনলাইনের পাশাপাশি কাগজের কার্যতালিকা প্রকাশ অব্যাহত রাখার দাবি জানানো হয়। জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা বিষয়টি নিয়ে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখাও করেন।

তাদের চেষ্টায় কাগজের কজলিস্টের আয়ু বেড়ে হয় ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। কিন্তু সেই তারিখে সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে জানানো হয়, আইনজীবীদের অনুরোধে হাই কোর্ট বিভাগে কাগজে ছাপা কজলিস্ট আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত চালু রাখার জন্য প্রধান বিচারপতি সম্মতি দিয়েছেন।

অনলাইনে কার্যতালিকা হলে ছাপানোর খরচ বেঁচে যাওয়ার পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ কাগজের সাশ্রয়ের কথা ২৮ জানুয়ারি সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল।

সেদিন তিনি বলেন, বর্তমানে প্রতিটি কজলিস্ট ছাপাতে প্রায় ৪০০ টাকা খরচ পড়ে। এভাবে বছরে খরচ হয় প্রায় ২১ কোটি টাকা। অথচ গ্রাহক চাঁদা বাবদ বছরে আদায় হয় মাত্র ৬০ লাখ টাকা, বাকি টাকা ভর্তুকি দিতে হয় সরকারকে।

“দৈনিক যে কজলিস্ট বের হয়, এর ৪০টি কজলিস্ট তৈরির পেছনে হিসাব করে দেখেছি একটি মাঝারি আকারের গাছ কাটা পড়ে।

“আমাদের ২৬০০ কজলিস্ট প্রতিদিন প্রস্তুত হয়। সে হিসাবে প্রতিদিন ৬৫টি গাছ কাটা পড়ত। আমাদের এই অনলাইন কজলিস্ট চালু হলে প্রতিদিন আমরা ৬৫টি গাছ কাটা থেকে সবাইকে মুক্তি দিতে পারি।”

গত ১ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টে পরীক্ষামূলকভাবে অনলাইনে কজলিস্ট চালু হয়। ৩১ জানুয়ারি থেকে প্রতিদিন রাত সাড়ে ৮টায় কোর্ট বিভাগের প্রত্যেকটি বেঞ্চের পরবর্তী দিনের কার্যতালিকা অনলাইনে প্রকাশ করা হচ্ছে।

এদিকে অনলাইনের পাশাপাশি কাগুজে কার্যতালিকা প্রকাশ করার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন সুপ্রিম কোর্টের একদল আইনজীবী। দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের সামনে সাধারণ আইনজীবীদের ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

মানববন্ধনে অন্যদের মধ্যে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ফিন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান আইনজীবী শ ম রেজাউল করিম, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, সৈয়দ হায়দার আলী, গোলাম মোস্তফা, সমিতির সাবেক সম্পাদক মোমতাজ উদ্দিন আহমেদ মেহেদী, রবিউল আলম বুদু ও গোলাম মোহাম্মাদ চৌধুরী আলাল অংশ নেন।