বাংলাদেশের কুইন বদ্বীপ হিসেবে ভোলার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

আদিত্য জাহিদ চরফ্যাশন থেকে,

ভোলানিউজ.কম,

২৯-০৯-২০১৭ইং- শুক্রবার,

মেঘনা তেতুলিয়া বুড়াগৌাড়াঙ্গ  নদী ও বঙ্গোপসাগর  বেষ্টিত ভোলা জেলার ৭টি উপজেলা প্রায় ১৮ লাখ বিভিন্ন পেশাজীবি মানুষের বসবাস রয়েছে। জেলার মূল ভুখন্ডের প্রায় চারশত বছর পুর্বে চর কুকরী মুকরী ও ঢালচরে বসবাস শুরু হয় বলে জানা গেছে। বাংলাদেশের মানচিত্র থেকে নদী দ্বারা বিছিন্ন জেলা ভোলার প্রতিটি উপজেলায় রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন স্বকীয়তা। মনপুরায় জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পরিদর্শণ কালে মানব সৃষ্ঠ বৃহৎ পুকুর, মৎস্য চাষ, চাষী পরিবারের মধ্যে সৌম্যতা দেখে   শান্তি নিবাস নির্মানের আশ্বাস দেন।  বর্তমানে মনপুরার বন বিভাগের বাগানের রয়েছে , মায়া হরিণ, চিত্রা হরিণ, মহিষ, যা পর্যটকদের মুগ্ধ  করে।
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় রয়েছে খনিজ সম্পদ। যার থেকে পেট্রো বাংলা নামক প্রতিষ্ঠান  গ্যাস দিয়ে ২২৫ মেঘাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে জেলা সহ জেলার বাহিরে সরবরাহ করে বৈদ্যুতিক চাহিদা মেটানোর চেষ্ঠা করছে।  দৌলতখানের বাংলাবাজারের শহরে নির্মান করা হয়েছে সুদৃশ্য মসজিদ।


চরফ্যাশনের পৌর শহরের মধ্যে খাস মহল মসজিদ এলাকায়  ভোলার চরফ্যাশনে নির্মিত হচ্ছে উপমহাদেশের সর্বোচ্চ ওয়াচ টাওয়ার। উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী সোলাইমান  জানান, টাওয়ারটির উচ্চতা প্রায় ১৭০ ফুট। টাওয়ারটিতে লিফটের সংযোজন করা হয়েছে। থাকছে উচ্চ ক্ষমতার বাইনোকুলার, যাতে ১০০ বর্গকিলোমিটার এলাকার নানা কিছু দেখা যাবে অনায়াসে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে পৌর সভার তত্বাবধানে  প্রায় ৭  কোটি টাকা ব্যয়ে ১৭ তলাবিশিষ্ট ওই দৃষ্টিনন্দন টাওয়ারটি পর্যটকদের দারুণভাবে আকর্ষণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।   সে লক্ষ্যে ইতোমধ্যে চর কুকরিমুকরি, ঢালচরসহ আশপাশের বনাঞ্চলে ইকোপার্ক গড়ে তোলা হয়েছে। ওয়াচ টাওয়ারে দাঁড়ালেই পশ্চিমে তেঁতুলিয়া নদীর    জলধারা, পূর্বে মেঘনা নদীর উথাল-পাতাল ঢেউ, দক্ষিণে পর্যটন এলাকা,  চর কুকরিমুকরিসহ বঙ্গোপসাগরের বিরাট অংশ নজরে আসবে। চরফ্যাশনের দক্ষিণে সাগর  মোহনার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ কুকরিমুকরি, ঢালচর, তারুয়া সৈকত প্রকৃতির এক অপার সৃষ্টি। কয়েক বছরে ওই স্পটগুলো ভ্রমণপিপাসুদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। ঢাকাসহ  দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ আসছেন ওইসব এলাকায়। চর কুকরীমুকরীর  ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলে রয়েছে হরিণ, বানর, বন  মোরগসহ নানা সাপ ও বন্যপ্রাণী। রয়েছে বন বিভাগের গবেষনা কেন্দ্র কিন্তু  পর্যটকদের আকর্ষণ করার মতো কোন স্থাপনা গড়ে ওঠেনি সেখানে। প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা অপার সৌন্দর্যের পাশাপাশি আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে চরফ্যাশনে নির্মিত হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন এই টাওয়ারটি। ইতোমধ্যে নির্মাণাধীন টাওয়ারটি দেখার জন্য প্রতিদিন শত শত মানুষ ছুটে যাচ্ছেন  প্রতিনিয়ত।
ইতিমধ্যে কুকরী মুকরীকে পর্যটন এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছেন সরকার। সেখানে গড়ে উঠেছে মানব সৃষ্ঠ ২য় সুন্দর বন। জ্যোস্না ও শুকনো মৌসুমে খুব কাছ থেকে হরিণ দেখার রয়েছে অপুর্ব সুযোগ।

 

(আল-্আমিন এম তাওহীদ,

ভোলানিউজ.কম,