লালমোহনে লজিং মাষ্টারের পরকীয়া,ছাত্রকে বেঁধে রেখে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের অভিযোগ,

লালমোহন প্রতিনিধি,

ভোলানিউজ.কম,

১১-০৯-২০১৭ইং

লালমোহন উপজেলার কালমা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা হারুনের ছেলে নাইম একই এলাকার ছালাউদ্দিনের স্ত্রী তাছলিমা ও তার ঘরের লজিং মাষ্টার মতিউরের অসামাজিক কার্যকলাপ দেখায় সে স্থানীয় লোকজনকে বলে দেওয়ার কারণে তাছলিমা বাহিনী একদল সন্ত্রাসী নিয়ে দিন দুপুরে তাকে ধরে নিয়ে তার বাড়ীতে বেধে রেখে বেধম মারপিট করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। হারুনের পরিবারের পক্ষ থেকে জানা হয়, একই এলাকার ছালাউদ্দিনের স্ত্রী তাছলিমা দীর্ঘ দিন ধরে তার ঘরের লজিং মাষ্টার মতিউরের সাথে পরকীয়ার সম্পর্ক করে আসছিল। রমজান ঈদের পরে নাইম ও নোমান তাছলিমার ঘরে আত্মীয়তার সূত্রে সে বাসায় গিয়ে আপত্তিকর অবস্থায় তাছলিমা ও মতিউরকে দেখতে পায়। তাৎক্ষনিক নোমানকে ম্যানেজ করে নাইমকে বুঝানো হয় এই ঘটনা কাউকে না বলার জন্য। নাইমের বয়স কম হওয়ায় সে স্থানীয় সাধারন লোকের কাছে ঘটনার কথা বলে ফেলে। এতে তাছলিমা, মতিউর ও সুফিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে নাইমকে মারধোর করার জন্য খোজাখুজি করে নাইমের পরিবারকে এই কথা না বলার জন্য হুমকি প্রদান করে। নাইমের পিতা ঘটনাটি জানতে পেরে তার ছেলেকে বোরহানউদ্দিন উপজেলায় নিয়ে তার কাছে দীর্ঘ দিন রাখে।

গত কোরবানীর ঈদে নাইম ঈদ উপলক্ষে বাড়ীতে আসে। এই খবর পেয়ে তাছলিমা বাহিনী তাকে হন্য হয়ে খোজাখুজি করে। গত ৬ সেপ্টেম্বর নাইম রাস্তা দিয়ে নবীনগর বাজার যাওয়ার পথে তাছলিমা, জাবেদ, জাফর, রাকিব, ছালাউদ্দিন, আলাউদ্দিন, জসিম, জিয়াদ ও সুফিয়া সহ তাকে রাস্তা থেকে ধরে নিয়ে চোখে মরিচের গুড়া মেরে রশি দিয়ে গাছের সাথে বেধে তাকে মারার উদ্দেশ্যে লাঠি, রড ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাথায়, গলার হারে ও বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। আঘাতের ফলে নাইমের গলার নিচের হাড় ভেঙ্গে যায় নাক, কান ও চোখ দিয়ে রক্ত বেড় হয়। এলাকার আবুল কালাম পাটওয়ারী, নুর মোহাম্মদ পাটওয়ারী, বাচ্ছু পাটওয়ারী, হাজী মৌলভী আঃ হক সহ অনেকে তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে তাছলিমা ও তার বাহিনীর হাতে নির্যাতনের স্বীকার হয়। তারপরও স্থানীয় লোকজন তাকে দ্রুত উদ্ধার করে লালমোহন সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত ডাক্তার নাইমের বেহাল অবস্থায় দেখে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেলে রেপার করা হয়। সেখানে তার আশংকাজনক অবস্থা দেখে ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়। নাইম বর্তমানে ঢাকা মেডিকেলে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। হারুনের শালা হোসাইন জানান, আমার দুলাভাই ও আমার বোন, ভাগিনাকে নিয়ে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা করাতে যাওয়ায় আমার ভগ্নিপতির আত্মীয় স্বজন ও আমার ছোট ভাগ্নি ও ভাইগনাকে বেড় করে দিয়ে গত শনিবার রাতে তাছলিমা বাহিনীর সন্ত্রাসীরা রাতের আধারে ঘরে মরিচের গুড়া ছিটে ঘরে থাকা কানের জিনিস, গলার চেইন, নগদ টাকা সমস্ত মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যায়। তাছলিমার অসামাজিক কার্যকলাপ ও নাইমকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার ঘটনা সম্পর্কে জানতে চেয়ে তাছলিমার স্বামী ছালাউদ্দিনের সাথে ০১৬২৬….২৬ নাম্বারের যোগাযোগ করা হলে সে মোবাইল অন্য লোককে দিয়ে রিসিভ করে বলে ছালাউদ্দিন এখানে নেই। মোবাইল চার্জে রয়েছে। মাদ্রাসার ছাত্র নাইমকে গুরুতর আহত করার ঘটনায় এলাকার সাধারন লোকজনের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। এই ঘটনায় নাইমের পরিবার মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ও প্রশাসনের কাছে সু-বিচার প্রার্থনা করছে।

 

(আল-এম)