ভোলায় এনজিও ব্র্যাকের মাঠকর্মীর হাত পা বাধাঁ লাশ উদ্ধার

আল-আমিন এম তাওহীদ,

ভোলানিউজ.কম,

১০-০৯-২০১৭ইং রবিবার,

ভোলায় বেসরকারি এনজিও ব্র্যাকের মাঠকর্মী মাইনুল হোসেন (৪০) নামের এক যুবকের লাশ ভোলা বরিশাল মেহেন্দিগঞ্জ সীমানার খাল থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

রবিবার ১০ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে পশ্চিম ইলিশার বটতলা এলাকার একটি খালে হাত পা বাধাঁ অবস্থায় মরদেহ ভাসতে দেখে এলাকাবাসি ভোলা থানার পুলিকে খবর দেয়। ঘটনাস্থলে গিয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি মীর খায়রুল কবীরসহ একটি পুলিশের টিম লাশটিকে উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য লাশটি ভোলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

মাইনুলের স্ত্রী জানান, গত ৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায় পশ্চিম ইলিশা তালুকদার বাজারে বাসা থেকে মাইনুল বের হয়ে নিজ কর্মস্থলে চলে যায়। এরপরে মাইনুল আর বাসায় ফিরেনি বলে জানাযায়। আনুমানিক ওইদিন দুপুর ১২টার দিকে মাইনুল ফোন করে তার স্ত্রীর কাছে সন্তানের শেষ খোজ-খবর নেয়। এরপর অনেক খোজা-খুজি করে না পেয়ে ভোলা সদর মডেল থানায় মাইনুলের স্ত্রী বাদী হয়ে বিল্লাল, কামাল, ওলিউল্লাহসহ আরো কয়েকজনকে আসামি করে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। এরপরে ওই অভিযোগে ভিত্তিতে আসামি দুইজনকে আটক করতে সক্ষম হয় থানা পুলিশ।
মাইনুল হোসাইন ঝালকাঠী জেলার কাঠাঁলিয়া উপজেলার ২নং ওয়ার্ডের দত্তরপশর বুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হক জমাদ্দারের ছেলে বলে জানাযায়। মাইনুল তার বাবার সংসারের মেজো ছেলে। ৮বছর আগে ভোলা সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নে বিবাহ করেন মাইনুল। মাইনুলের দম্পত্তি জীবন সুখে শান্তিতে কেটেছিলো। সংসারে দুটি সন্তান, লাবণী ও লামিয়া। মাইনুল ভোলায় বেসরকারি এনজিও ব্র্যাক এ শুনামের সহিত ১০ বছর মাইক্রোফিনান্স শাখায় চাকুরী করে আসছেন। চাকুরী করার সুবাধে মাইনুল ও তার স্ত্রী সন্তান নিয়ে ভোলায় বাসা ভাড়া করে থাকতেন। তার মা বাবা থাকে ঝালকাঠি উপজেলার কাঠালিয়া নিজ গ্রামের বাড়িতে।

এবিষয়ে ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) মীর খায়রুল কবীর ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের জানান, ৭সেপ্টেম্বর ব্র্যাক এনজিও ও মাইনুলের স্ত্রী থানায় এসে একটি সাধারন জিডি দায়ের করে। এরপরে ভোলা থানা পুলিশ মাইনুলকে উদ্ধার করতে বিভিন্ন স্থানে পুলিশ সদস্যরা কাজ করেন। ওই অভিযোগে উল্লেখিত আসামিদের মধ্য থেকে সন্দেভাজন দুইজনকে আটক করেছি। তাদেরকে জিজ্ঞেসাবাদ চলছে। আজ রবিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ভোলা মেহেন্দিগঞ্জ সীমানা থেকে এলাকাবাসি ফোন করে জানায় খালে লাশ ভাসছে। এমতাবস্থায় ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পাই হাত পা বাধাঁ অবস্থায় মরদেহ পানিতে ভাসছে। পরে মাইনুলের আত্বীয় স্বজনদেরকে ডেকে নিশ্চিত করা হয়েছে এটা মাইনুলের লাশ। তবে প্রাথমিক ধারণা করা যায় মাইনুলকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। লাশটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ভোলা হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়না তদন্ত শেষে লাশটি মাইনুলের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এই হত্যার সাথে যারা জড়িত তদন্ত কওে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।