যে কারণে চীন-ভারত সীমান্তে গোলাগুলি হয় না

ডেস্কঃ ভোলানিউজ.কম,

২৫আগস্ট-২০১৭ইং শুক্রবার,

ডোকলাম নিয়ে দু’মাসের বেশি হয়ে গেল ভারত আর চীনের মধ্যে বিরোধ চলছে। দু’দেশের সেনারা মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন, আর নেতারা গরম গরম বিবৃতি দিচ্ছেন।

 এত উত্তেজনা সত্ত্বেও দু’দেশের বাহিনীই কিন্তু সংযম বজায় রেখেছে, কোনো সহিংস ঘটনার খবর এখনও পর্যন্ত আসেনি।

ডোকলাম নিয়ে দু’দেশের সম্পর্ক প্রায় তলানিতে এসে ঠেকলেও ভারত-চীন সীমান্ত যে রকম শান্ত, সেটা পাকিস্তান আর ভারতের সীমান্তে দেখা যায় না।

পাক-ভারত সীমান্তে নিয়মিত গুলি বিনিময় হয় দু’দেশের বাহিনীর মধ্যে, মাঝে মাঝেই দু’দেশের সেনাসদস্যদের মৃত্যুও হয়।

কিন্তু ভারত-চীন সীমান্তে বড়জোর দুই বাহিনীর মধ্যে হাতাহাতি হয়- তার বেশি কিছু নয়। দু’দেশের সঙ্গে দুই সীমান্তে কেন দুই চিত্র?

চীনে কর্মরত ভারতের সিনিয়র সাংবাদিক শৈবাল দাসগুপ্ত বলেন, ভারত আর চীনের মধ্যে একটি সমঝোতা আছে যে, যতই মতভেদ হোক, সীমান্তে উত্তেজনা কোনো দেশই বাড়তে দেবে না। অটল বিহারি বাজপেয়ি যখন চীনে এসেছিলেন, সেই সময়েই রাজনৈতিক প্রেক্ষিতটা তৈরি হয়। পরে মনমোহন সিংয়ের আমলেও সেই একই নীতি অনুসরণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, দুটো দেশের মধ্যে এরকম সিদ্ধান্ত রয়েছে যে, ফ্রন্ট লাইনে যেসব সেনাসদস্য মোতায়েন থাকবেন, তাদের কাছে কোনো রকম অস্ত্র থাকবে না। যদি সেনা র্যাংক অনুযায়ী কোনো কর্মকর্তার কাছে আগ্নেয়াস্ত্র রাখা নিয়ম হয়, তাহলে তার নল মাটির দিকে ঘুরিয়ে রাখা থাকবে।

সেজন্যই দু’দেশের সেনাসদস্যদের হাতাহাতি বা কুস্তি করার ভিডিও দেখা যায়, কোথাও গুলি বিনিময়ের ছবি দেখা যায় না।

পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের এরকম কোনো চুক্তি নেই। ভারত ও চীনের সেনাদের মধ্যে হাতাহাতির যেসব ভিডিও দেখা যায় গণমাধ্যম বা সামাজিক মাধ্যমে, সেগুলো যদি কেউ খুঁটিয়ে দেখেন, তাহলেই বোঝা যাবে সৈনিকরা যেন বাচ্চাদের মতো কুস্তি লড়ছেন। একে অপরকে ধাক্কা দেন, কেউ পড়ে গিয়ে আবার উঠে দাঁড়ায়। কিন্তু কেউ কাউকে চড়-থাপ্পড় মেরেছে, এটা দেখা যায় না। চড় মারা অপমান করার শামিল। তাই ধাক্কাধাক্কির সময়েও কেউই হাত ব্যবহার করেন না। নিজেদের রাগ নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্যই সেনাসদস্যরা এটা করে থাকেন।

ভারতের অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল অশোক মেহতা জানান, ১৯৭৫ সালে শেষবার ভারত আর চীনের সেনাবাহিনীর মধ্যে গুলি চলেছিল। সেই ঘটনায় কোনো পক্ষেরই কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি, কিন্তু সেটার পুনরাবৃত্তি হয়নি। নিয়মিত সমঝোতা আর আলোচনার মাধ্যমেই লাইন অফ অ্যাকচ্যুয়াল কন্ট্রোলের সমস্যাগুলোকে দু’দেশই ব্যাক বার্নারে ঠেলে দিয়েছে।

১৯৯৩ সালে নরসিমা রাও যখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, সেই সময়ে মেইন্টেন্যান্স অব পিস অ্যান্ড ট্র্যাংকুয়েলিটি চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। ১৯৯৬ সালে আস্থাবর্ধক ব্যবস্থাপত্রে সই করে দু’দেশ। ২০০৩ আর ২০০৫ সালেও চুক্তি হয়েছে। আর ২০১৩ সালে সই হওয়া বর্ডার ডিফেন্স কো-অপারেশন এগ্রিমেন্টই এ বিষয়ে সর্বশেষ চুক্তি।

মেজর জেনারেল মেহতার কথায়, সীমান্তের যে অংশগুলো অমীমাংসিত, সেখানে দু’দেশই শান্তি বজায় রাখে আর নির্দিষ্ট চুক্তি থাকার ফলে কোথাও গুলি চলে না। দু’দেশই সিদ্ধান্ত নিয়েছে আগেই যে সীমান্ত সমস্যাগুলো নিয়ে তখনই ভাবা যেতে পারে যখন আমাদের মধ্যে অর্থনৈতিক আর নাগরিক সম্পর্কগুলো পাকাপোক্ত হয়ে উঠবে। পাকিস্তানের সঙ্গে এমন কোনো সমঝোতা নেই ভারতের। বিবিসি।

(আল.এম)