লালমোহনে সনদ বিহীন ‘কথিত ডাক্তারের হাতে’ প্রাণ গেলো রোগীর!

হাসান পিন্টু, লালমোহন,

ভোলানিউজ.কম,

১৭আগস্ট-২০১৭ইং বৃহ,
ভোলার লালমোহনের কথিত রামকৃষ্ণ (রাঁধা) ডাক্তারের হাতে প্রান গেলো রোগীর। গত মঙ্গলবার উপজেলার গজারিয়া বাজারের পল্লী চিকিৎসক রাঁধা তার নিজ বাড়ীতে টনসেলের লাইলী (মনোয়ারা) নামের এক রোগীকে ১৫ হাজার টাকা চুক্তিতে অপারেশন করার চেষ্টা করে। কিন্তু যার কোন অভিজ্ঞতা ছাড়াই তিনি এ অপারেশন শুরু করেন। ফলে ওই রোগীর গলার একটি রগ কেটে যায়। এতে তার অতিরিক্ত রক্তপাত শুরু হলে কথিত ডাক্তার রাঁধা তাকে বরিশালে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে সে নিজেই একটি মাইক্রোবাস ভাড়া করে তাদের সাথে যান। রোগী বহণ করা মাইক্রোবাসটি ভোলা ভেদুরিয়া পর্যন্ত গেলে পথিমধ্যে রোগীর মৃত্যু হয়। ঘটনা বুঝতে পেরে রাঁধা চা খাওয়ার নাম দিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যায়। একই মাইক্রোতে করে পরে মৃত লাইলীকে তার বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। লাইলীর পরিবারের লোকজন ওই মাইক্রোটি আটকে রাখে। পরদিন রাঁধা ডাক্তারকে সেখানে উপস্থিত করে আড়াই লক্ষ টাকা জরিমানা করে মাইক্রোটি ছেড়ে দেয়।

জানা যায়, ভোলা বোরহানউদ্দিন উপজেলার কাচিঁয়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের গোলাম গোফুর পন্ডিত বাড়ি থেকে লাইলী মঙ্গলবার সকালের দিকে তার স্বামী আঃ রশিদ ও মেয়ে রোকসানাকে সঙ্গে নিয়ে রাঁধার কাছে গলার টনসেলের অপারেশন করার জন্য আসে। ডাক্তারের সাথে ১৫ হাজার টাকা চুক্তিতে সে অপারেশনে রাজী হয়। পরে রাঁধা ডাক্তার তাকে অপারেশন করে। কিন্তু সেখানে ভুল বসত লাইলীর গলার একটি রগ কেটে যায়। সেখান থেকে প্রচুর রক্তপাত শুরু হলে তাকে রাঁধা ডাক্তারসহ বরিশালে নেওয়ার পথে মারা যায়। প্রশাসনের ভয়ে এই কথিত রামকৃষ্ণ (রাঁধা) বর্তমানে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়ে তার ছেলে মহিতসহ পলাতক আছে বলে জানা যায়।

লাইলীর মেয়ে রোকসানা জানায়, আমার মা দীর্ঘ দিন গলায় টনসেলের রোগে ভোগছেন। আমরা রাঁধা ডাক্তারের কাছে গেলে তিনি আমাদের কম খরচে অপারেশন করে দিবেন বলে পরামর্শ দেন। পরে তার সাথে ১৫ হাজার টাকা চুক্তিতে মায়ের গলায় অপারেশন করতে রাজী হয়। সেখানে অপারেশন অবস্থায় মায়ের প্রচুর রক্তপাত শুরু হয় এবং তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। আমরা শুনেছি উনি একজন ডাক্তার। পরে আমরা শুনেছি তার কোনো সরকারী সনদ নেই। তাহলে সে কিসের ডাক্তার? যদি উনার কোনো সরকারী সনদ না থাকে তাহলে উনার কঠিন বিচার হওয়ার দরকার।

লাইলীর বড় মেয়ের জামাই হেলাল উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, আমার শ^শুর একজন রিক্সা চালক, সে না বুঝে শ^াশুরীকে রাঁধা ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান। প্রতারক রাঁধা ডাক্তার কৌশলে আমার শ^াশুরীকে অপারেশন করাতে রাজী করান। আমি চাই আর যেনো কেউ এই ভূয়া ডাক্তারের প্রতারণার খপ্পরে না পড়েন। আমরা এই প্রতারক ডাক্তার রাঁধার শাস্তির দাবী করছি।

এ বিষয়ে রামকৃষ্ণ (রাঁধা)’র বক্তব্যর জন্য তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে নাম্বারটি বন্ধ থাকায় কোন বক্তব্য প্রদান করা সম্ভব হয়নি।

উল্লেখ্য, সনদ বিহীন কথিত ডাক্তার রামকৃষ্ণ (রাঁধা)’কে গত ২০ ই জুন ভোলার নির্বাহী ম্যাজেস্ট্রেট পলাশ ১ লক্ষ টাকা জরিমানা করে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সিলগালা করেন। এছাড়াও তাকে বিভিন্ন সময় ভ্রাম্যমান আদালতের কাছে মোছলেখা দিতে হয়েছে। এমন কী এই অবৈধ ব্যবসার জন্য তাকে ১/১১ এর সময় কারাবরণও করতে হয়েছে। তবুও তার এই ব্যবসা থামছে না কোনভাবেই। লালমোহনের সর্ব স্তরের জনগন জানতে চান রাঁধা কী দেশের প্রচলিত আইনের উর্দ্ধে?