‘মায়ের বিরুদ্ধে ছেলের মামলা’ ছেলের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা,

মাসুদ লালমোহন প্রতিনিধি,

ভোলানিউজ.কম,

১৪আগস্-২০১৭ইং,

লালমোহন উপজেলার বাসিন্দা বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রাক্তন পরিচালক (অ.দা.) ডা. নিজাম উদ্দিন ফারুকের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে দুদক মামলা দায়ের করেছে।

নিয়োগে সীমাহীন অনিয়ম মালামাল ক্রয়ে অনিয়ম ও আরও একাধিক অনিয়মের অভিযোগে রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি তার সৎ মা আনোয়ারা বেগম ও একমাত্র সৎ ভাই কামরুল আহসান সেলিমকে পরিবারের সম্পত্তি থেকে উৎখাত করার জন্য তিনি ফৌজদারী মামলা ভোলা কোর্টে করে থাকেন। ঘটনার বিবরণে প্রকাশ, সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রানালয়ের স্বারক নং ৫৬ তারিখ ১৮/০১/২০১৬ইং এর মাধ্যমে ডা. নিজাম উদ্দিন ফারুককে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে পরিচালকের (অ.দা.) হইতে বরখাস্ত করা হয়। পরবর্তীতে তাকে পরিচালক (অ.দা.) হইতে অব্যাহতি দেয়া হয়। দুর্নীতি দমন কমিশন ব্যাপক অনুসন্ধান ও তদন্তের পর গত ০৯/০৮/২০১৭ইং তারিখে ডা. নিজাম উদ্দিন ফারুকের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করে। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস !! মাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে রেহাই পেলোনা ছেলে ডা. নিজাম উদ্দিন ফারুক। প্রকাশ থাকে যে, তিনি ব্যাপক তদবীরের মাধ্যমে পরিচালকের (অ.দা.) পদটি লাভ করেন। তার নিজ এলাকা ভোলা জেলা থেকেও চাকরী দেয়ার নামে বিশাল অংকের টাকা সংগ্রহ করে আত্মসাৎ করে। ডা. নিজাম উদ্দিন ফারুকের বাবা ডাক্তার থাকার সুযোগে প্রয়োজনীয় মেধা না থাকা সত্ত্বেও অপকৌশলে সিলেট মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন। সেখানে ছাত্র থাকা অবস্থায় তিনি অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলার কারণে ফৌজদারি মামলায় গ্রেফতার হন ও দীর্ঘদিন হাজত খাটেন। চাকুরী জীবনে তার বিরুদ্ধে অনেক অনিয়মের অভিযোগ আছে।

ডা. নিজাম উদ্দিন ফারুক বাদী হয়ে ষড়যন্ত্র করে তার অসহায় সৎ মা আনোয়ারা বেগম ও একমাত্র সৎ ভাই মোঃ কামরুল আহসান সেলিমকে পারিবারিক সম্পত্তি হইতে উৎখাত ও বিতাড়িত করার জন্য বিগত ০৬/১২/২০১৬ ইং তারিখে ভোলায় ফৌজদারী মামলা দায়ের করে। যাহার নম্বর এম পি ১৭৯/২০১৬ (লাল), উক্ত মামলায় গুরুতর অসুস্থ্য, বৃদ্ধা, শয্যাশায়ী আনোয়ারা বেগম (৮০) হাজতে থাকিয়া মৃত্যুর প্রহর গুনছেন। এই মামলার ০৩নং আসামী আলহাজ¦ মোঃ মফিজুর রহমান মামলার ঘটনার তারিখে সৌদি আরবে পবিত্র মক্কায় হজ্জ পালন করছিলেন। পবিত্র হজ্জ পালনরত থাকিয়াও মামলাবাজ ডা. নিমাজ উদ্দিন ফারুকের মামলা থেকেও রেহায় পায়নি আলহাজ¦ মোঃ মফিজুর রহমান। ডা. নিজাম উদ্দিন ফারুক পুনরায় বাদী হয়ে এদের বিরুদ্ধে বরিশালের বিজ্ঞ চীফ জুডিশিয়াল মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে এম পি কেস নং ৮৯/২০১৭ (কোতয়ালী) ২য় বার মিথ্যা মামলা দায়ের করে। যাহা তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত হয়। ইহা ছাড়াও ডা. নিজাম উদ্দিন ফারুক বাদী হয়ে এদের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা জজ ভোলা কোর্টে ৩য় মামলা দায়ের করে (যাহার নম্বর ১/২০১৭)। একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে পরিবারটিকে নিঃস্ব করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন তিনি। এলাকায় মামলাবাজ হিসেবে খ্যাত ডা. নিজাম উদ্দিন ফারুকের এহেন কর্মকান্ডে এলাকার জনগনের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।