ভোলায় ভূমি খেকো লিটনদের ক্ষমতার দাপট! পৈতৃক সম্পত্তি হারাতে বসেছে গৃহবধু

বিশেষ প্রতিনিধি,

ভোলানিউজ.কম,

১০আগস্ট-২০১৭ইং বৃহ,

ভোলার চরফ্যাশনে ভূমি খেকো লিটন গংদের ক্ষমতার দাপটে পৈতৃক সম্পত্তি হারাতে বসেছে রাবেয়া নামের এক গুহবধু। পৈতৃক সম্পত্তি রক্ষায় চার বছরেরও বেশী সময় ধরে ক্ষমতাশীন ও গ্রামের শালিশদারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তিনি। বাবার শেষ স্মৃতিটুকু ধরে রাখতে বিভিন্ন লোকের কাছে ঘুরেও কোনো লাভ হয়নি। সর্বশেষ আদালতের স্বরনাপন্ন হন তিনি। কিন্তু আদালত অমান্য করেই ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ওই জমিতে আধাপাকা দোকান ঘর তুলে ভাড়া দিচ্ছেন ভূমি খেকো লিটন গংরা। এ ঘটনায় থানায় জানালে পুলিশ কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। পরে পুলিশ চলে গেলে তারা আবার কাজ শুরু করে। এরকম করে ওই জমিতে ঘর তুলে বর্তমানে ব্যবসায়ীদের কাছে ভাড়া দিচ্ছে। রাবেয়া খাতুন ঢাকায় বসবাস করায় এই সুজোগে লিটন ও তার পাঁচ ভাই মিলে রাবেয়ার বাবার ক্রয় করা জমি জবর-দখল করতে মরিয়া হয়ে উঠে। তিনি পৈতৃক সম্পত্তি রক্ষায় এর কাছে ওর কাছে ধরনা দিচ্ছেন। কিছুতেই ভূমি খেকো লিটন গং দের থামাতে পারছেন না। 

রাবেয়া খাতুন লিখিত অভিযোগে আরও বলেন, তার বাবা ওয়ারেন্ট অফিসার (অবঃ) শফিক উল্যা আর্মিতে চাকুরি করে পেনশনের টাকা দিয়ে মামা ছাহেব আলীর নিকট থেকে ১৯৯৫ সালে ভোলা চারফ্যাশনের এওয়াজপুর মৌজায় ১৬০ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। যার ঝঅ খতিয়ান নং -২০০, জঝ খতিয়ান নং- ১৬২, দিয়ারা খঃ নং -৪৭৭, দাগ নং ৩২১৬,৩৫৪৫ থেকো ৩৫৬৬। তিনি কর্মব্যস্ত জীবনে ঢাকায় আবস্থান করায় এই জমি তার বোন কহিনুর বেগমের তত্ত্বাবধানে রেখে যান। উল্লেখ থাকে যে কহিনুর সাহেব আলী একমাত্র পুত্রবধু ছিলেন। ১৯৭৪ সালে বিয়ের পর থেকে কহিনুর শশুরের এবং ১৯৯৫ সালের পর থেকে বড় ভাই শফিক উল্যার জমির তত্ত্বাবদানে ভোগ দখলে ও বসবাসরত আছেন। শফিক উল্যা ২০১০ সালে ১০০ শতাংশ বিক্রি করে দেন এবং বাকী ২৪ শতাংশ বোন কহিনূরকে ও ৩৬ শতাংশ মেয়ে রাবেয়াকে দান করেন। বর্তমানে কহিনূর স্বামী পরিত্যাক্তা নিরিহ অসহায় মহিলা হওয়ায় আবুল খায়ের লিটন, তার পাঁচ ভাই ও কিছু ভাড়াটে সন্ত্রসী-ভূমি দস্যু একত্রিত হয়ে কহিনূরের উপরে দীর্ঘ দিন যাবত নানাভাবে অন্যায় অত্যচার এবং জায়গা থেকে বিতারিত করার অপচেষ্টা করে আসছে। আবুল খায়ের লিটনের বাবা আলী আজগর সাহেব আলীর একমাত্র মেয়ের ঘর জামাই ছিলেন। মেয়ের ভবিষ্যতের কথা ভেবে জামাইকে ৪০ এবং নাতি লিটনকে ৮ শতাংশ জমি দিয়ে ওই জমার দক্ষিনে পার্শে বাড়ি ঘর নির্মান করে দখল বুঝিয়ে দেন। তারা এক যুগেরও বেশি সময় ধরে তা ভোগ দখলে আছেন। শশীভূষনে নতুন থানা হওয়ায় সেখানকার জায়গার মূল্য কয়েকগুন বেড়ে যায়। যার ফলে লিটন ও তার পক্ষের লেকাজন মিলে শফিক উল্যার মেয়ে রাবেয়া ও বোন কহিনূরের নির্দিষ্ট চৌর্হদ্দি দেওয়া ভোগ দখলীয় জমি জবর দখলের অপচেষ্টা করে। এই মর্মে শফিক উল্যা উপজেলা চেয়ারম্যা জয়নাল আবেদীনের নিকট গত ০৯-১২-২০১৪ ইং তারিখে বিচারের জন্য আবেদন করেন। কিন্তু তারা চেয়ারম্যানের বিচারকে না মেনে ওই জায়গা অবৈধ দখলের চেষ্টায় লিপ্ত থাকে। এমনকি গত ০৭-০১-২০১৫ ইং তারিখ লিটন ও তার অন্যান্য সহযোগী ভাড়াকরা ভূমিদস্যুরা (আলতাফ বাঘা, রফিক, জহির, আলাউদ্দিন, ফারুক ও খোরশেদ) সহ আরো অনেকের সহযোগীতায় কহিনূর ও তার ছেলেদেরকে নিমর্মভাবে মারধর করে। এমনকি তাদেরকে রক্তাক্ত করে তার ঘর ভাংচুর করে ওই জায়গা জোরপূর্বক অবৈধভাবে দখল করে ঘর নির্মানের চেষ্টা চালায়।
এ ঘটনায় শশীভূষন থানায় অভিযোগ করলে থানার ওসির নির্দেশে এসআই মিজান ঘটনাস্থানে গিয়ে লিটন গংদের জায়গা দখলে বাধা দেয়। পরে লিটন গংরা কহিনূর ও তার সন্তানদেরকে মামলা ও থানায় অভিযোগ দিতে নিষেধ করে। মামলা বা অভিযোগ করলে ইজ্জ্বতহানি ও প্রান নাশের হুমকি দিয়ে চলে যায়। এ সকল ঘটনা শফিক উল্যা স্থানীয় এমপি এবং বন ও পরিবেশ উপ-মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকবকে বিষয়টি জানায়। মন্ত্রী তাৎক্ষনিক শশীভূষন থানায় ফোন করে ভারপ্রাপ্ত (ওসি) এসআই সুবহানকে সুষ্ঠ ফয়সালা না হওয়া পর্যন্ত ওই জমিতে সকল কর্যক্রম বন্ধ রাখতে বলে। এসআই সুবহান ঘটনাস্থলে গিয়ে লিটন গংদেরকে কাজ বন্ধের রাখার জন্য বলেন। এসময় এওয়াজপুর ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের সেক্রেটারি করিম এসআই সুবহানকে নিষেধাজ্ঞার নোটিশ নিয়ে আসতে বলে।
রাবেয়া আরও বলেন, লিটন গংদের ক্ষমতার দাপটে নিরুপায় হয়ে গত ১৬-০৩-২০১৫ ইং তারিখে চারফ্যাশন সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে চিরস্থারী নিষেধাজ্ঞা ও বন্টনের মামলা করেন তারা। আদালত ০১-০৯-২০১৫ ইং তারিখ ওই জমিতে স্থিতিবস্থার আদেশ দেয়। লিটন গংরা আদালতের কয়েটি নোটিশ পাওয়ার পরও সেগুলোকে পাত্তা না দিয়ে আদালতকে উপেক্ষা করে ধাপে ধাপে ওই জায়গা জবর দখলের চেষ্টা চালিয়ে যায়।
সর্বশেষ গত ০৩ মার্চ ২০১৬ ইং তারিখ রাতের বেলায় ওই জায়গায় কাজ করতে গেলে রাবেয়া খাতুনের লোকজন বাঁধা দেয়। এতে লিটনরা তাদের উপর হামলা করে। পরে শশীভূষন থানা পুলিশ লিটন ও তার দুই ভাই জহির এবং রফিককে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠায়। এরপর তারা আদালত থেকে জামিনে এসে বাদীপক্ষকে প্রাণনাশসহ নানা প্রকার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে এবং জবর দখলের চেষ্টা লিপ্ত রয়েছে। এমতাবস্থায় বাদীপক্ষ নিরূপায় হয়ে ১৮ জুন ২০১৬ ইং তারিখ আবার আদালতে ভায়োলেশন মামলা দায়ের করেন।
এব্যাপারে অভিযুক্ত আবুল খায়ের লিটন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি কারো জমি দখল করেননি। তার বাবার জমিতেই ঘর উঠিয়েছেন। আদালত নিষেধাজ্ঞা জারি করার পর ওই জমিতে কোনো কাজ করা হয়নি বলেও জানান লিটন।