মায়ের কাছ থেকে রাজনৈতিক পরামর্শ নিতেন বাবা: প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্কঃ,

ভোলানিউজ.কম,

৮আগস্ট-২০১৭ইং মঙ্গলবার,

দলের যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার সহধর্মিনী বেগম ফজিলাতুন্নেছার পরামর্শ নিতেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, মানুষের অধিকার রক্ষায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আজীবন সংগ্রামের ছায়াসঙ্গী ছিলেন বেগম ফজিলাতুন্নেছা। তার পরামর্শেই বঙ্গবন্ধু দলের যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতেন।

মঙ্গলবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ৮৭তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

বঙ্গবন্ধুর আন্দোলন ও সংগ্রামে নেপথ্যের প্রেরণাদাত্রী হিসেবে ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের অবদান তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আজ আমরা যে স্বাধীন দেশ পেয়েছি তাতে জনমত সৃষ্টি করতে আমার মায়ের ভূমিকা অপরিসীম। মায়ের মতো একজন সাথী পেয়েছিলেন বলেই আমার বাবা তার জীবনে সংগ্রাম করে সফলতা পেয়েছিলেন। আমি সবার কাছে দোয়া চাই।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত স্মরণসভায় মায়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘ঘাতকের দল যেভাবে আমার মায়ের ওপর গুলি চালিয়েছে, সেটা কখনও ভাবতে পারি নাই। আমার মনে হয়, ঘাতকের দল জানতো এদেশের স্বাধীনতার পেছনে আমার মায়ের অবদান। আমার কষ্ট আমার মা সারাজীবন কষ্ট করে গেলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমার মা কিন্তু সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে আব্বাকে সাহায্য করেছেন। ছয় দফা দেওয়ার পর আব্বা একেকটা জেলায় যেতেন, বক্তৃতা দিতেন। আরেক জেলায় গেলে গ্রেপ্তার করা হতো। মুক্তি পেয়ে আরেক জেলায় গিয়ে বক্তৃতা দিতেন। আরেক জেলায় গেলে গ্রেপ্তার করা হতো। এভাবে কতবার যে আব্বাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ৬৬-সালে আব্বাকে গ্রেপ্তার করার পর ৭ জুন হরতাল ডাকা হয়। সেই হরতালকে সফল করতে সকল কাজ করেছিলেন আমার মা।’

তিনি বলেন, ‘ছয় দফার পর যিনিই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হতেন তাকেই গ্রেপ্তার করা হতো। তখন আমার মায়ের পরামর্শে মহিলা সম্পাদিকা আমেনা বেগমকে সেক্রেটারি করা হলো।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘৭ মার্চের ভাষণের সময় অনেক কাগজপত্র, অনেক পয়েন্ট, অনেক পরামর্শ, আমাদের বাসায় কাগজে-কাগজে ভর্তি। যে কোনও একটা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় আমার মা কিছু সময়ের জন্য আব্বাকে আলাদা করে নিয়ে যেতেন। ওই সময় আম্মা আব্বাকে নিয়ে এসে বললেন, তোমার সামনে লক্ষ লক্ষ মানুষের হাতে বাঁশের লাঠি। তোমার পেছনে পাকিস্তানিদের বন্দুক। অনেকে অনেক পরামর্শ দেবে, তোমার মনে যা আসবে তুমি তাই বলবে।’

তিনি বলেন, ‘আব্বা কী চান, সেটা আমার মা বুঝতেন। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দেওয়ার আগে পাকিস্তানি গোয়েন্দা বাহিনী আমার মাকে অনেকবার ইন্টারোগেশন করেছে। কোনোভাবে তাকে মামলায় জড়ানো যায় কিনা। কিন্তু আমার মা অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে বিষয়টি মোকাবিলা করেন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আব্বাকে কোনোদিন সংসারের বিষয় নিয়ে মা বিরক্ত করতেন না। শুধু সংসার নয়, সংগঠনের বিষয়গুলো আমার মা দেখতেন। ছাত্রলীগ সরাসরি মা দেখতেন। আমাদের তো সারাটা জীবন ধাক্কা খেয়ে খেয়ে চলতে হয়েছে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহধর্মিনী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ১৯৩০ সালের ৮ আগস্ট গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালোরাত্রিতে স্বামী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তিন ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রাসেল, দুই পুত্রবধূ ও আত্মীয়-স্বজনসহ দুষ্কৃতকারীদের গুলিতে তিনি শাহাদতবরণ করেন।