ভোলায় দুই স্কুলের ছাত্রদের দ্বন্দ! কলেজ ছাত্রকে পিটিয়ে গুরুতর জখম

ইকরামুল আলম,

ভোলানিউজ.কম,

৪আগস্ট-২০১৭ইং শুক্রবার,

ভোলা সদর উপজেলার সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় ও এ, রব স্কুল এন্ড কলেজের সদ্য এসএসসি পাশ করা ছাত্রদের পুরনো দ্বন্দে ভোলা সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণীর ছাত্র মাহমুদুল হাসান সৈকতকে রড, সাইকেলের চেইন ও ব্লেড দিয়ে আঘাত করে জখম করেছে তার সহাপাঠীরা। আহত মাহমুদুল হাসান সৈকত ভোলা পৌরসভার কালিবাড়ি রোডের ভদ্রপাড়া এলাকার আবু তাহরের ছেলে ও ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৭ সালে এসএসসি পাশ করে।

সে বর্তমানে ভোলা সদর হাসপাতালের ৪নম্বর কেবিনে চিকিৎসাধীন রয়েছে। বৃহষ্পতিবার বেলা ১১টায় ভোলা সরকারি কলেজের মেইন গেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

আহত মাহমুদুল হাসান সৈকত রাত সাড়ে ১০টায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জানায়, ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সদ্য এসএসসি পাশ করা ছাত্রদের সাথে এ,রব স্কুলের এসএসসি পাশ করা ছাত্রদের সাথে তিন বছর আগ থেকেই পরীক্ষার হলের সিট, ফুটবল খেলা, ফেসবুক প্রেমিকাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দ্বন্দ চলে আসছে ও কোনো কোনো সময় এসকল বিষয় নিয়ে দুই গ্রুপে বেশ কয়েকবার মারামারিও হয়েছে। সর্বশেষ বৃহষ্পতিবার সকালে এসব ঘটনার রেশ ধরে শহরের যুগিরঘোল এলকায় দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। এ ঘটনার সময় সৈকত বাসায় ছিলো । কিন্তু এ, রব স্কুল এন্ড কলেজ গ্রুপ মোস্তফা কালাম বাসস্টান্ড এলাকার মো. নিরবের ছেলে ও ফাতেমা খানম কলেজের একাদশ শ্রেণীর ছাত্র আফ্রিদির নেতৃত্বে ভোলা কলেজের একাদশ শ্রেণীর আলিফ, আকবর, ফরহাদ, তানজিল, ফাহিম ও রূপকসহ ২০-২৫জনের একটি গ্রুপ ভোলা কলেজের গেটের সামনে সৈকতকে ডেকে রড দিয়ে মাথায় আঘাত করে ও সাইকেলের চেইন দিয়ে পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় জখম করে। এমনকি ধারালো ব্লেড দিয়ে হাতে ও ঘাড়ে আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে। এসময় সৈকতকে রক্তাক্ত অবস্থায় তার আরেক সহপাঠী উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।
আহত মাহমুদুল হাসান সৈকতের বাবা আবু তাহের অভিযোগ করে বলেন, আফ্রিদির বাবাকে সৈকত বিষয়টি জানালে সে তার ছেলের পক্ষে কথা বলেন। এবং ছেলেকে উস্কানি দেয়।
ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর খায়রুল কবির বলেন, এই দুই স্কুলের ছাত্রদের মারামারি দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। সৈকতকে মারধরের ঘটনা আমাদেরকে জানানো হলে পরিস্থিতি শান্ত রাখতে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। সৈকতের পরিবার থানায় মামলা করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।