ভোলার ‘ওয়াকওয়েতে পুলিশ কনেস্টবলের মোটরসাইকেল প্রবেশে বাধা দেয়ায়’ পৌরসভার স্টাফকে বেধরক মারধর!

আল-আমিন এম তাওহীদ,

ভোলানিউজ.কম,

২৮জুলাই-২০১৭ইং শুক্রবার,

ভোলা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠটি এখন সকল শ্রেণী পেশার মানুষের উপযোগী একটি নির্ভরযোগ্য। একদিকে রয়েছে শিশুদের বিনোদনের ব্যবস্থা, ও খেলার ধুলা। অপর দিকে রয়েছে বাক-প্রতিবন্ধি, ডায়েবেটিকস রোগী, মানষিক রোগীসহ বিভিন্ন ধরনের শারিরিক চর্চার একমাত্র যোগ্য এ মাঠটি।

দেখাযায়, প্রতিনিয়ত সেখানে নারী-পুরুষ হাজারো মানুষের ঢল। কেউ আসে দেহের ওজন বেড়ে গেলে শারিরিক চর্চার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করতে। কেউ আসে ডায়বেটিকস নিয়ন্ত্রণ করতে। আবার কেউ আসে মানষিক সুস্থতার জন্য ব্যায়াম করতে। এসকল মানুষের শান্তিপূর্ণ পথচলার জন্য ভোলা পৌরসভার মেয়র মনিরুজ্জামান মনির এই মাঠটি কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে সোন্দর্য্য করেছে। সেখানে কোন ধরনের যানবাহন চলাচল নিষেধ করা হয়েছে। নির্ধারিত যানবাহনের জন্য মাঠের পশ্চিম পার্শ্বে বিশাল একটি পার্কিং ব্যবস্থা রয়েছে। এসকল যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করার জন্য হানিফ নামের একজন ৪র্থ শ্রেণী কর্মচারীকে দায়িত্বে রাখা হয়েছে পৌরসভা থেকে। আর যানবাহন প্রবেশ নিষেধ, এর মূল কারন হলো যখনি কোন একটি ছোট শিশু বিনোদনের জন্য ব্যস্ত থাকে। হঠাৎ করে বিনোদন শেষে একটি দৌড় দিলো। একটি মানষিক রোগী বা একজন প্রতিবন্ধি মানুষ তাকে শান্তি সু-শৃংঙ্খলভাবে শারিরিক চর্চা করানো হচ্ছে। এগুলো মানুষ যাতে শান্তিপূর্ণভাবে করতে পারে সে জন্য কোন যানবাহন মাঠের একদিকে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে। শুধু তাই নয় সেখানে প্রতিদিন আসে শতশত মা-বোন তাদেরকে নিরাপত্তা দেয়ার জন্য একটি শান্তিপূর্ণ মাঠ তৈরি করেছেন ভোলা পৌরসভার মেয়র ও ভোলা জেলা যুবলীগের সভাপতি আলহাজ্ব মনিরুজ্জামান মনির।
২৮ জুলাই শুক্রবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে ভোলা পুলিশ লাইনস এ কর্মরত কয়েকজন পুলিশ কনেস্টবল সিভিল পোষাকে মটর সাইকেল নিয়ে সরকারি স্কুল মাঠের ওয়াকওয়েতে প্রবেশ করে বলে জানাযায়। এসময় মাঠে দায়িত্বে থাকা ভোলা পৌরসভার ৪র্থ শ্রেনী কর্মচারী মোঃ হানিফ (৬০) বাধা দেয় ভিতরে প্রবেশের জন্য। এ নিয়ে পুলিশ কনেষ্টবল ও কর্মচারীর মধ্যে মারধরের ঘটনাটি ঘটে বলে জানাযায়।
ঘটনাস্থলে সাধারণ জনতারা বলেন, দুইজন কনেস্টবল মোটরসাইকেল নিয়ে চালিয়ে এসে গাড়ি রাখার পার্কিং স্থানটি ওভার করে শিশুদের বিনোদন ও শারিরিক চর্চার মাঠের দিকে প্রবেশ করতে চাইলে কালো মুরুব্বি দাড়িওয়ালা বাধা দেয়। মুরুব্বি তাদেরকে বলেন মেয়র সাহেব এর আদেশ ভিতরে শিশুরা দৌড়া দেীড়ি করে এবং মেয়েরা রয়েছে সেদিকে গাড়ি নিয়ে যেতে পারবেন না। গাড়ি রাখার স্থান ওই আলাদা ওখানে রাখেন। একথা মুরুব্বি হানিফ বার বার বলা সত্বেও ওই ৫জন কনেস্টবল পুলিশ তা মানছে এবং শুনছেনা। এসময় তারা বলে কোন মেয়র টেয়ার বেল নাই, আমরা সরকার, সরকারকে আমরা টিকিয়ে রেখেছি একথা বলে কনেস্টবল আবারো মোটর সাইকেল নিয়ে ভিতরে প্রবেশ করার চেষ্টা করে। এসময় কর্মচারী হানিফ ভাই তাদের গাড়ির চাবী নেয়। চাবিটি নেয়ার সাথে সাথে জোরে একটি থাপ্পর মারে মুরুব্বির গালে। এরপর পুলিশ কনেস্টবলরা গাড়িটি সাইডে রেখে মুরুব্বিকে ঘুষি আর লাথি দিয়ে মাটিতে ফেলে চটা শুরু করেন। যখনি মুরুব্বি জ্ঞান হারিয়ে ফেলে তখনি জনতা ক্ষিপ্ত ওঠে। এখানে আশা জনতারা এগুলো কান্ড দেখে কনেস্টবলদের উপরে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এক পর্যায়ে পুলিশ কনেস্টবলদেরকে তো জনতা আটক করে মারবে। পরে এক বড় ভাই মারতে দেয়নি তিনি সেইফে রেখে থানায় ফোন দেয়। এরপর দারোগা রিয়াজ এসে নিয়ে যায় পুলিশ কনেস্টবলদেরকে। এরা মোট ৫জন ছিলো ২জন মোটর সাইকেলের উপরে আর তিনজন পাশে প্রথমে দাড়ানো ছিলো। পরে মুরুব্বিকে গুরুতর আহত অবস্থায় আমরা উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাই।
এবিষয়ে আহত হানিফ এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পুলিশ কনেস্টবল মটরসাইকেল নিয়ে ভিতরে প্রবেশ করবে। আমি বলছি মেয়র মহোদয়ের আদেশ ভিতরে শিশুরা খেলাধুলা করে এবং সকলে ব্যায়াম করে আপনারা গাড়িটি ওইখানে রাখার ব্যবস্থা আছে সেখানে রাখেন। গাড়ি নিয়ে ভিতরে প্রবেশ করতে পারবেন না। একথা বলার সাথে সাথে বলে কোন মেয়র টেওয়ার নেই আমরা সরকার, সরকারকে আমরা টিকিয়ে রেখেছে যা করতে পারেন তা কইরেন। তখনি আমি বার বার বলছি ভিতরে গাড়ি নিয়েন না। তারা কথা শুনে না তারপর তাদের গাড়িটির চাবি নেযার সাথে সাথে আমার গালে চোপার গুশি দেয়া শুরু করে এরপর কি হয়েছে তা আমি জানি না।
আহত হানিফ ভোলা পৌরশহরের উত্তর চরনোয়াবাদ ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি ভোলা পৌরসভায় ৩৫ বছর কর্মরত চলছে।
এবিষয়ে কনেস্টবলদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করলে, তাদেরকে পাওয়া যায়নি।
এবিষয়ে ভোলা সদর মডের থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর খায়রুর কবীরের সাথে মুঠোফোনে আলাপকালে তিনি বলেন, এরা হলেন পুলিশ লাইনের কেবল নতুন আসছে। তারা কিছুই চিনে না এবং কিছু জানে না কেবল ট্রেনিং শেষ করে আসছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় যে ব্যবস্থা এবং আমাদের পক্ষ থেকে পুলিশ সুপার মহোদয় বিষয়টি জেনেছে এবং ইতিমধ্যে তদন্ত টিম গঠন করেছে। তাদের অপরাধ প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে এ ঘটনায় রাব্বি, হাদিস ও অনিক নামের তিন পুলিশ কনেস্টেবলকে সাময়িক বরখাস্ত করেছেন ভোলা জেলা পুলিশ সুপার মোকতার হোসেন।