ভোলায় প্রধান শিক্ষক কর্তৃক ছাত্রকে বলাৎকার! পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন

ইকরামুল অালম,

ভোলানিউজ.কম,

২০জুলাই-২০১৭ইং বৃহঃ,

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার আছলামপুর আজহার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মশফিকিউর রহমানের বিরুদ্ধে দশম শ্রেণীর এক ছাত্রকে বলৎকারের অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় গত ১৪জুন ২০১৭ইং তারিখে চরফ্যাশন থানায় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছেলের বাবা বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। কিন্তু মামলার এক মাস পেরিয়ে গেলেও পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। উল্টো প্রধান শিক্ষক এলাকার প্রভাবশালী ও থানার লোক দিয়ে ভিকটিম ও ভিকটিমের পরিবারকে মামলা তুলে নেয়ার জন্য প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। বুধবার দুপুর ১২টায় প্রধান শিক্ষকের বিচার ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে ছাত্রের বাবা ভোলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রধান শিক্ষকের স্ত্রী নাজমা বেগম ঘটনাটি ষড়যন্ত্রমূলক দাবি করে স্বামীর পক্ষে সংবাদ সম্মেলন করেন।


বুধবার সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রের বাবা লিখিত অভিযোগ করে বলেন, তার ছেলে আছলামপুর আজহার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীতে পড়ে। সে ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষকে কাছে ইংরেজী প্রাইভেট পড়ত। প্রধান শিক্ষক মশফিকিউর রহমান গত ১৩জুন রাতে মোবাইলে ছাত্রকে জরুরী কথা আছে বলে তার বাসায় আসতে বলে। ওই ছাত্র প্রধান শিক্ষকের ফোন পেয়ে বাসায় যায়। বাসায় কেউ না থাকার সুযোগে প্রধান শিক্ষক তাকে জোড়পূর্বক বলৎকার করে। এ অবস্থায় ওই ছাত্র তার বন্ধুদের ফোন করে। পরে তারা এসে তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে চরফ্যাশন হাসপাতালে ভর্তি করে।
তিনি আরও বলেন, এঘটনায় সুষ্ঠ বিচারের জন্য তারা চরফ্যাশন থানায় একটি মামলা করে। কিন্তু মামলার এক মাস পেরিয়ে গেলেও পুলিশ তাকে আটক করতে পারেনি। পুলিশকে আসামী গ্রেপ্তারের কথা বললেও পুলিশ বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করেনি। প্রধান শিক্ষক বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতাশীন লোকদের দিয়ে নিস্পত্তির জন্য চাপ প্রয়োগ করে যাচ্ছে। থানা পুলিশও নিস্পত্তির জন্য বলছে।
এঘটনার পর থেকে ওই ছেলে লজ্জায় ঘর থেকে বের হতে পারছে না। স্কুলেও যেতে পারছে না। এ অবস্থায় ওই ছাত্র কয়েকবার আত্মহত্যারও চেষ্টা চালায়। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মামলার স্বাক্ষীদেরও হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। প্রধান শিক্ষক বিভিন্ন লোকদের টাকা দিয়ে এঘটনা মিথ্যা প্রমানের চেষ্টা চালাচ্ছে। আমি প্রধান শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মশফিউর রহমানের পক্ষে স্ত্রী নাজমা বেগম সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, আমার স্বামী ষড়যন্ত্রের শিকার। তার দীর্ঘ শিক্ষকতার জীবনে এরকম কোনো বদনাম নেই। ওই স্কুলের সহাকারী প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিন প্রধান শিক্ষক হওয়ার লোভে এ ষড়যন্ত্র করেছে।


এদিকে সহকারী প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না।
বিদ্যালয়ের সভাপতি চরফ্যাশন পৌরসভার মেয়র বাদলকৃষ্ণ দেবনাথ বলেন, তিনি বলাৎকারের শিকার শিশুটির সাথে কথা বলেছেন, এতে মনে হয়েছে শিশুটি আসলেই নির্যাতিত। কিন্তু কে এই ঘটনার নায়ক তা বলা যাচ্ছে না। ঘটনা তদন্ত ও বিচার করার জন্য প্রধান শিক্ষককে দুই বার সালিশে ডেকেছিলাম, কিন্তু প্রধান শিক্ষক উপস্থিত হননি। দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বললে কে প্রকৃত দোষী তা বের হয়ে আসবে।