চরফ্যাশনে ‘সন্ত্রাসী হামলার ভয়ে’ সঃ প্রাঃ স্কুলের গেজেটভূক্ত ৪ শিক্ষক ক্লাস নিতে পারছেনা

আদিত্য জাহিদ চরফ্যাশন,

ভোলানিউজ.কম,

১৭জুলাই-২০১৭ইং সোমবার,

ভোলার চরফ্যাশনের চরআইচা ৮নং ওয়ার্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গেজেট ভূক্ত চার শিক্ষক সন্ত্রাসী হামলার ভয়ে ক্লাস নিতে পারছেনা বলে অভিযোগ করেছেন সরকারী গেজেট ভুক্ত প্রধান শিক্ষক নেছার উদ্দিন । ফলে ব্যাহত হচ্ছে স্কুলটির কোমলমতি শিক্ষার্থীদের লেখা পড়া। গেজেটভূক্ত শিক্ষরা হলেন- মোঃ নেছার উদ্দিন, মোঃ শফি উদ্দিন, রুবিনা আফরোজ ও জান্নাত।

প্রধান শিক্ষক নেছার উদ্দিন অভিযোগ করেন, নীতিমালা অনুযায়ী ২০১১ সালের ৩০ মে স্কুলের সভাপতি কর্তৃক নিয়োগ প্রাপ্তির পর স্কুল গৃহ নির্মাণ করে ক্লাস পরিচালনা করে আসছি। ২০১৩ সালের ১৮ নবেম্বর তৃতীয় ধাপে জাতীয়করণের ৬ষ্ঠ সভায় উপজেলা যাচাই-বাছাই কমিটি কর্তৃক শিক্ষক সংক্রান্ত তথ্য ছক “খ”তে আমাদের নাম শিক্ষক হিসাবে উল্লেখ্য পূর্বক জাতীয়করণের জন্য সুপারিশ করেন। ২০১৪ সালের ২ ফ্রেব্রুয়ারি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহকারি পরিচালক সাইফুল্লাহ মুকবুল মোর্শেদ (মনি) সরেজমিনে বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেন। ওই বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি জেলা যাচাই বাছাই-কমিটির ১৮২ নং স্মারক মূলে বিদ্যালয় ও শিক্ষক জাতীয়করনের সুপারিশ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রেরণ করা হয়। ওই সময় উক্ত বিদ্যালয়ের নামে কোনো প্রকার মামলা- মোকদ্দমা সংক্রান্ত আপত্তি ছিল না। যার প্রেক্ষিতে ২০১৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি বিদ্যালয়টি জাতীয় করণের গেজেট ভুক্ত হয়। বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের প্রায় চার মাস পরে ২০১৫ সালের ১৭ মে এডিপিও খলিলুর রহমান আমাদের চার শিক্ষক হতে প্রতিবেদনের জন্য দুই লাখ টাকার ঘুষ দাবী করেন তাকে আমরা পঞ্চাশ হাজার টাকা ঘুষ প্রদান করি। বাকি দেড় লাখ টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তিনি মোটা অংকের ঘুষের বিনিময়ে মোসাঃ রাবেয়া, রাজিয়া, ফরহাদ, মোতাছিন নামক চার জনকে শিক্ষক হিসাবে অর্ন্তভূক্তির জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ৪২ পাতার সুপারিশ প্রেরণ করেন। উক্ত প্রতিবেদনের বিপরীতে ২০১৫ সালের ২৮ জুন ও ২ জুলাই ভোলার ডিপিও সাইয়াদুজ্জামান দুইটি প্রতিবেদন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করেন। তাতে এডিপিও খলিলুর রহমানের প্রতিবেদনকে ভূয়া ও মনগরা বলে উল্লেখ্য করেন। এছাড়া এডিপিওর প্রতিবেদনটি ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে হওয়ায় এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে অধিকার ফিরে পেতে প্রধান শিক্ষক নেছার উদ্দিন হাইকোর্টে একটি রীট পিটিশনদায়ের করেন। যার নং- ৩৮২৫/১৬।
২০১৭ সালের ২৭ এপ্রিল আমাদের নামে খসড়া শিক্ষক গেজেট প্রকাশ হয়। চলতি বছরের ০৭ মে স্কুলের জমিদাতা ও ভূয়া শিক্ষরা স্থানীয় সন্ত্রাসী দ্বারা আমাদেরকে মারধর করে বিদ্যালয় হতে বের করে দেয় এবং প্রাণনাশসহ বিভিন্ন হুমকি অব্যহত রেখেছে। এতে আমারা গেজেট ভূক্ত প্রকৃত শিক্ষরা খুন, গুম ও মামলার ভয়ে বিদ্যালয়ে যেতে না পেরে রাস্তায় ও আইনের ধারে ঘুরে বেড়াচ্ছি। এদিকে ২০১৭ সালের ৪ এপ্রিল প্রকাশিত খসড়া শিক্ষক গেজেটের পর আপত্তি ও গড়মিলের সংশোধণীতে আমাদের ৪ শিক্ষক থেকে উপজেলা শিক্ষা অফিসার আ. সালাম চার লক্ষ টাকা ঘুষ দাবী করেন। তারা দাবীকৃত ঘুষ দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় তিনি এডিপিও খলিলুর রহমানের বাহিরে পূনরায় নতুন লোককে মোটা অংকের ঘুষের বিনিময়ে শিক্ষক হিসেবে সুপারিশ প্রেরণ করেন।
এব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ পূর্বক বৈধ শিক্ষকগনের নামে চুড়ান্ত শিক্ষক গেজেট প্রকাশ ও শিক্ষকদের পাঠদানের আইনী সহায়তা করার করার জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহা পরিচালকের নিকট াবদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নেছার উদ্দিন আবেদন করেছেন।
এ প্রসংগে চরফ্যাশন উপজেলা শিক্ষা অফিসার আ. সালাম জানান, ওই স্কুলটি নিয়ে দুগ্রুপের হানাহানী রয়েছে এবং আদালতে রিট রয়েছে। বিষয়টির সামাধান করার জন্য আমি ও উপজেলা চেয়ারম্যান চেষ্টা করেছিলাম। আমারা প্রতিবেদনে দুগ্রুপের শিক্ষকের নামই পাটিয়েছি এবং স্কুলটি নিয়ে রিট রয়েছে সে তথ্যও প্রেরণ করেছি।
এডিপিও খলিলুর রহমান তার রিরুদ্ধে আনীত অভিযোগকে বানোয়াট ও খামখেয়ালিপনা দাবী করে বলেন আমি সরেজমিনে যা পেয়েছে প্রতিবেদনে তাই উল্লেখ করেছি। আমার প্রতিবেদনে উভয়গ্রুপের শিক্ষকের নামই আছে।