ফের ভোলা উত্তাল জনতার বিক্ষোভ রাস্তা অবরোধ ‘ইউপি চেয়ারম্যান মোশারেফের মুক্তির দাবী, দৌলতখান ইউএনও’র শাস্তির দাবীতে মানববন্ধন।

আল-আমিন এম তাওহীদ,

ভোলানিউজ.কম,

৮জুলাই-২০১৭ইং শনিবার,

জেলের তালা ভাঙ্গবো, মোশারেরফ হোসেন ভুইয়াকে আনবো। দৌলতখান উপজেলা ইউএনও কামালের দুই গালে জুতা মারো তালে তালে এই স্লোগানকে সামনে রেখে হাজার হাজার জনতা একত্রিত হয়ে ফের ভোলা উত্তাল। শনিবার সকাল ১০টা থেকে ঘন্টা ব্যাপী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল এবং সড়ক জনপদ বন্ধ করে টায়ার জ্বালিয়ে মানব বন্ধন করেছেন চরপাতা ইউনিয়নের জনগণ।

ভোলা দৌলতখান উপজেলার ৩নং চরপাতা ইউনিয়ন পরিষদ এর চেয়ারম্যান মোশারেরফ হোসেন ভুইয়ার মুক্তির দাবী ও দৌলতখান উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ কামাল হোসেনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে ভোলার দৌলতখান চরপাতা ইউনিয়নে বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন ও চরপাতা ইউপি চেয়ারম্যান মোশারেরফ হোসেন ভুইয়ার মুক্তির দাবীতে এ বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তরা বলেন, ৩নং চরপাতা ইউনিয়ন পরিষদের সরকারি বরাদ্দকৃত জেলেদের চাল প্রকৃত কার্ডধারী জেলেদের না দিয়ে, ইউপি সদস্যরা চাল আত্মসাৎ করেন ৩০৮ বস্তা। তাই চেয়ারম্যান মোমারেরফ হোসেন তিনি অসহায় জেলেদের চাল রক্ষা করতে গিয়ে গত ২৪জুন আটক হয় এবং ইউএনও ইউপি সদস্যদের ইঙ্গিতে ঘুষের বিনিময় নিজে চেয়ারম্যানকে ব্যাপকভাকে মারধর রক্তাক্ত জখম করে নিজে দৌলতখান নির্বাহী অফিসার কামাল হোসেন। পরে তাকে পুলিশ আটক করে বিনা অপরাধে জেল হাজতে পাঠিয়ে দেয়। ইউএনও’র এসকল অনৈতিক কার্যকলাপের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানাচ্ছি এবং আমাদের চেয়ারম্যান মোশারেরফ হোসেনকে মুক্তির দাবীতে আজ আমরা মানববন্ধনে অংশ গ্রহণ করেছি। আগামি ২৪ঘন্টার মধ্যে আমাদেরকে চেয়ারম্যানকে মুক্তি না দিলে আগামিকাল কঠোর আন্দোলনের ঘোষনা করা হবে।

এসময় মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন, ভোলা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মোসতাক আহম্মেদ শাহিন, চরপাতা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি শাহে আলমসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের কর্মীরা ও সাধারণ জনগণ, এবং রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ প্রমূখ।
উল্লেখ্য, ২৪জুন শনিবার, ভোলায় জেলেদের চাল রক্ষা করতে গিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার,

দৌলতখান চরপাতা ইউনিয়ন পরিষদে জেলেদের চাল বিতরন নিয়ে চেয়ারম্যন সমর্থকদের সাথে মেম্বার সমর্থদের ধাওয়া ,পাল্টা ধাওয়া হয়েছে এঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান মোশারেফ ভুইয়াকে আটক করেছে পুলিশ।

জানা যায়, সরকারি খাদ্য অধিদপ্তর থেকে জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল চরপাতা ইউপি সদস্যরা প্রকৃত জেলেদের চাল না দিয়ে। নিজেদের পরিচিত স্বজন প্রীতিদের মাঝে চাল বিতরন করেন এবং চাল আত্মসাৎ করেন। জেলেদের চাল বিতরণে অনিয়ম আর দূর্নীতির বিষয়টি চেয়ারম্যান মোশারেফ হোসেন ভুইয়া জানতে পেরে বাধা দেয় এবং আদালতে মামলাও দায়ের করেন বলে জানা যায়। শনিবার ২৪জুন সকাল থেকে ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোশারফ ভুইয়া জেলেদের চাল বিতরণ করেছিলেন। বেলা ১টার দিকে ইউপি সদস্যরা চাল বিতরণে বাধা দেন। এতে সুবিধা ভোগীরা ও প্রকৃত জেলেরা সকলে মিলে মেম্বারদেরকে ধাওয়া করে। পরে উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা সেখানে গেলে ইউপি সদস্যরা আবার একত্রিত হয়ে পুনরায় চেয়ারম্যন এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘষের ঘটনাটি ঘটে।
দৌলতখান থানা পুলিশ ঘটনা স্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এর আগে রাজনৈতিক কারনে ইউপি চেয়ারম্যান মোশারেফ ভুইয়াকে কে বরখাস্ত করেন প্রশাসন। বরখাস্তের পর আজ আবার চাল বিতরন করায় মেম্বার ও উপজেলা প্রশাসন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে বলে জানিয়েছেন চরপাতা ইউনিয়ন বাসি।
দৌলতখান থানার ওসি এনায়েত হোসেন জানান, চরপাতা ইউপি চেয়ারম্যান কর্তৃক ইউএনও কে চড় মারার অভিযোগে চেয়ারম্যান মোশারেফ ভুইয়াকে আটক করা হয়েছে।
এদিকে ইউপি চেয়ারম্যান মোশারেরফ হোসেন ভুইয়াকে গ্রেফতার করায় ক্ষুদ্ধ চরপাতা ইউনিয়নের জনগণ।
আরো উল্লেখ্য, গত ৮জুন রবিবার বিভিন্ন পত্রিকার শিরোনামে , ভোলা দৌলতখানে ইউপি সদস্য’রা কর্তৃক জেলে পরিবারের ৩’শ ৮বস্তা দুই বস্তা চাল আত্মসাতের অভিযোগ।
ভোলা দৌলতখান উপজেলার ৩নং চরপাতা ইউনিয়ন পরিষদে প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের খাদ্য অধিদপ্তর কর্তৃক জেলে পরিবারের জন্য ৫৬ মেট্রিক টন চাউল বরাদ্দ করা হয়। এই ৫৬ মেট্রিক টন চাউল থেকে ইউনিয়ন চেয়ারম্যানকে না জানিয়ে তার অজান্তে ইউপি সচিব ও ইউপি সদস্য’রা মিলে ১০২’শ দুই বস্তা চাউল আত্মাসাৎ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সরে জমিন সূত্রে জানায়, কার্ডধারী ২৮০০ জেলে পরিবার। এর মধ্যে ১১দিন ব্যাপী ২০০০ পরিবারের মাঝে কিছু চাউল বিতরণ করা হয় আলহাজ¦ মোশারেফ চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে। বাকি ৮’শ জেলে পরিবারের চাউল গুদামে মজুদ ছিলো। গুদামের চাবী দুইসেট। একসেট ইউপি সচিবের কাছে আরেক সেট ইউপি চেয়ারম্যানের কাছেও বলে জানা যায়।
সরে জমিনে দেখা যায়, ওই গুদামে কিছু চাউল মজুদ ছিলো তা ৮ মে রবিবার সকাল ১০টার দিকে ইউপি সচিব শাহাদাৎ হোসেন রুবেল এর ইঙ্গিতে ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ হেলাল উদ্দিন, ইউপি সদস্য আব্দুল আজিজ, ইউপি সদস্য ছলেমান পাটওয়ারী, ইউপি সদস্য মোঃ ওয়াদুদ, সংরক্ষিত মহিলা আসনের ইউপি সদস্য জুলু বেগম, ও জুথি বেগম। তাদের নেতৃত্বে বিনা কার্ডধারীদের মাঝে কিছু চাউল বিতরণ করতে দেখা যায়। তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের ক্যামেরায় হাতে নাতে বিষয়টি ধরা পড়ে। তার পাশাপাশি সাদা কাগলে রিসিভ আকারে ইউপি সদস্য আজিজ এর সিল স্বাক্ষকসহ কিছু টুকরা সাদা কাগজ হাতে নাতে ধরা পড়ে। এসময় ওই সকল ইউপি সদস্যদেরকে প্রশ্ন করলে কোনো উত্তর না দিয়েই ঘটনা স্থল দ্রুত ত্যাগ করে পালিয়ে যায়।
কার্ডধারী জেলে সূত্রে জানান, আামরা কিছু জেলে এখনো চাউল পাইনাই। মেম্বারেরা সব তাদের পরিচিত লোকে গো দিছে। আমরা কিছুই পাই নাই। মেম্বর সাহেবরা চেয়ারম্যান সাহেব কে না জানিয়ে চাউল গুলো কে বা কাকে দিছে তা আমরা জানি না।
পরবর্তীতে এবিষয়ে তাদের সঙ্গে আলাপ করলে তারা বলেন, আমরা চেয়ারম্যানকে অবাঞ্ছিত ঘোষনা করেছি। এই চাউল বিতরণ করতে উপজেলা নিবার্হী অফিসার ও উপজেলা থেকে আদের্শ দিয়েছে।
এবিষয়ে ইউনিয়নের (পূর্বের বক্তব্য) চেয়ারম্যান আলহাজ¦ মোশারেফ হোসেন এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আজকের চাউল বিতরণ হয় না হয় তা আমি জানি না এবং আমাকে কেউ কিছু বলেনি। ইউপি সচিব ও ইউপি সদস্যরা মিলে ৩’শ ৮ বস্তা চাউল আত্মাসাৎ করেছে। চরপাতা ইউনিয়ন পরিষদের জেলেদের বিশেষ বরাদ্দকৃত ৫৬ মেট্রিক টন চাউল জেলেদের মধ্যে বিতরণের জন্য উপজেলা খাদ্য গুদাম হতে আনা হয়। ২৮০০’শ জন কার্ডধারী জেলেদের মধ্যে ২০০০ হাজার কার্ডধারী জেলেদের মধ্যে ১১দিন ব্যাপী বিধি মোতাবেক চাউল বিতরণ করা হয়। অবশিষ্ট ৮০০’শ কার্ডধারী জেলেদের মধ্যে বিতরণের জন্য ৪১০’শ দশ ব¯তা চাউল অত্র পরিষদ গুদামে মজুদ ছিলো। অত্র পরিষদ গুদামের দুইসেট তালা চাবী ছিলো একসেট আমার চেয়ারম্যান) কাছে ছিলো। আরেক সেট অত্র পরিষদ সচিব মোঃ শাহাদাত হোসেন রুবেলের কাছে থাকতো। জেলেদের মধ্যে চাউল বিতরনকালীন সময়ে জেলেদের সুবিধার্থে আমার কাছে রক্ষিত চাবি সেটটি সচিবের নিকট দেয়া হয়েছে। এই সুবাধে পরিষদ সচিব অত্র ইউপি সদস্যদের সাথে আতাত করে পরিষদ গুদাম হতে ৩০৮ বস্তা চাউল আত্মাসাৎ করে। আমার চাবিসেট কিভাবে সচিবে ইউপি সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করেছে তা আমার বোধগম্য নহে। ইতিমধ্যে বিষয়টি আমি আমার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য।
এবিষয়ে ভোলা দৌলতখান উপজেলার নির্বাহী অফিসার এর সঙ্গে তার ব্যবহৃত ০১৭১১৪৮৯৭৩৩ মুঠোফোনে আলাপ করলে তিনি জানান, জেলে পরিবারের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি খাদ্য গুদামের চাউল কার্ডধারী জেলে পরিবারের মাঝে বিতরণের জন্য বলা হয়েছে। এখানে বিনা কার্ডধারীদের মাঝে আমি কাউকে চাল বিতরণ করতে বলিনি এবং চেয়ারম্যানের অজান্তে অত্র পরিষদের চাউল কাউকে বিতরণও করতে আমি বলিনি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এবিষয়ে ভোলা জেলা প্রশাসক মোহাং সেলিম উদ্দিনের সঙ্গে আলাপ করলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বিষয়টি আপনারা দৌলতখান উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানান।