ভোলায় বীরমুক্তিযোদ্ধা পরিবারে উপর চলছে অমানবিক নির্যাতন।

বিশেষ প্রতিনিধি,

ভোলানিউজ.কম,

৫জুলাই-২০১৭ইং বুধবার,

আমি সেলিনা পারভীন ভোলা দৌলতখান সদর হাসপাতালের পরিবার কল্যাণ পরির্দশীকা। আমি সব সময় রোগীদের পাশে থেকে সেবা করি, অনেক সময় দেখা যায় রাত ২টার দিকে গর্ভবতী অসুস্থ মা আসেন। নিজের আরামের ঘুম হারাম করে চিকিৎসা সেবা করি। তারপরও কেনো আমার উপর এরকমের অমানবিক নির্যাতন কেন করা হচ্ছে। আমার বাবা একজন প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা সাবেক বশির চেয়ারম্যান। আমার পরিবারের সকল সদস্যরা আওয়ামীলীগ পরিবারের সন্তান। আমার ভাই বর্তমানে দৌলতখান পৌরসভার প্যানেল মেয়র ও কাউন্সিলর। আমাদের পরিবারের যেভাবে নির্যাতন চলছে তা মেনে নেয়ার মত না। আমাদের পরিবারের একটাই অপরাধ আমরা আওয়ামীলীগ করি কেন। আমার ছেলে হামজা রহমান (অন্তর) বর্তমানে ঢাকা জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি।

ভোলা দৌলতখান সদর হাসপাতালের পরিবার কল্যাণ পরিদর্শীকা সেলিনা পারভীন এর নামে সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত কোয়ার্টারের বিদ্যুত সংযোগ বিছিন্ন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে ভোলা বাংলাবাজার পল্লি বিদ্যুত অফিসের কর্মকর্তারা এ সংযোগ বিছিন্ন করে দেয় বলে জানা যায়।

সেলিনা পারভীন অভিযোগ সূত্রে জানান, প্রতি মাসের বিদ্যুৎ বিলের কাগজ হাতে পাওয়া মাত্রই বিল পরিশোধ করে দিচ্ছি এমনকি কোন মাসে আমার জরিমানাও হয়নি প্রথম তারিখের আগেই বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে দিয়েছি। বিগত দিনের বিল গুলো এভাবে দিচ্ছি। কিন্তু মঙ্গলবার দুপুরের সময় আমার বাসার বিদ্যুৎ সংযোগ বিছিন্ন করে দেয় বাংলাবাজার বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তারা। এসময় তাদেরকে জিজ্ঞেস করলাম আমার তো বিদ্যুৎ বিল বকেয়া নেই এবং কোন সময় জরিমানাও হয়নি ঠিক তারিখ মতো পরিশোধ করে দিয়েছি। তারপর আমার বাসার বিদ্যুৎ সংযোগ কেন বিছিন্ন করা হয়েছে। তখন অফিসাররা বলেন উপর লেভেল থেকে আদেশ আসছে আপনার বাসার বিদ্যুতের লাইনটি কেটে দেয়ার জন্য। আমরা একথা বলতে পারবো না আপনি গিয়ে জিজ্ঞেস করেন। এরপরে বিষয়টি আমার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা সাবেক বশির চেয়ারম্যান কার কাছ থেকে যেনো জানছে বাসার বিদ্যুত লাইন কাটছে। বাবায় আমাদের এমপি আলি আজম মুকুল ভাইকে তাৎক্ষনিক বিষয়টি জানালে তিনি আমার বাবাকে বলেন, কেবল বিদ্যুত বিছিন্ন করা হয়েছে এরপরে পানির লাইন বিছিন্ন করে তারপর মহিলা পুলিশ দিয়ে পেটাতে পেটাতে বাসা থেকে বাহির করে দেয় হবে। আমাদের কোন অপরাধ নেই কিছু জানি ও না হঠাৎ করে এভাবে আমাদের পরিবারের উপর নির্যাতন চলছে। এমনকি এই বাসার বিদ্যুতের লাইন বিছিন্ন করার আগে তো আমাকে কোন নোটিশ করবে বা দিবে, কিন্তু নোটিশ দেয়া হয়নি। আমার নামে বরাদ্দকৃত ৭/ ১ কোয়ার্টার ছাড়ার জন্য জুন মাসের ৪ তারিখ একটি নোটিশ আসছে। নোটিশে বলা হয়েছে জুলাই মাসের ১ তারিখে কোয়ার্টার ছাড়ার জন্য। কিন্তু ১তারিখে কিভাবে আমি বাসা ছাড়বো জুন মাসের মধ্যে পড়ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। আমি চিন্তা করেছি একটি দরখাস্ত দিয়ে ১মাসের সময় বাড়িয়ে এনে তারপর বাসার মালামাল যা কিছু আছে তা সরিয়ে নিবো এবং অন্য একটি বাসা দেখে তারপর ছাড়বো। সরকারি নিয়মনীতিতে রয়েছে ৩মাসের মধ্যে কোয়ার্টার পরিবর্তন করা যাবে। এখানে তিনমাস তো দুরের কথা ১মাসের মধ্যেই চলছে ঝড় তুফান। হুমকি দেয়া হচ্ছে আমাকে মনপুরা বদলি করানো হবে। তবে আমার দোষটা কি? আমি কি অপরাধ করেছি? কেন আমার পরিবারের উপর এভাবে অমানবিক নির্যাতন করা হচ্ছে?। আমার ছোট শিশু বাচ্চাটি এই গরমে রাতে একটু ঘুমাতে পারেনি সারারাত কান্না করছে। কতটা কষ্ট হয়েছে যা বলে প্রকাশ করা যাবে না। আমাদের পরিবার বিএনপি আমলেও ছিলো নির্যাতনে আর আওয়ামীলীগ আমলেও নির্যাতনে শিকার। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন আমার বাবার বাড়িটি আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়। আর এখন আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় বাসার বিদ্যুত লাইন কেটে দিয়েছে। মনে হয় আত্মহত্যা করে জীবনকে বির্সজন দিয়ে দেয়। আর সহ্য হচ্ছে না এত কষ্ট।

এবিষয়ে দৌলতখান সদর হাসপাতালের (টিএস) ডাঃ তাপস কুমারের সঙ্গে একাধিকবার
তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে ০১৭১৫-১৮০৪৬২ যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তাকে পাওয়া যায়নি।
এবিষয়ে ভোলা বাংলাবাজার পল্লি বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা (জিএম) মোঃ কেফায়েত উল্লাহ এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দৌলতখান সদর হাসপাতালের (টিএস) তাপস কুমার একটি চিঠি দিয়েছেন কোয়ার্টারের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিনা করার জন্য। তাই আমরা চিঠি পেয়ে সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছি।