যখন তোমার কেউ ছিল না তখন ছিলাম আমি- আল-আমিন তাওহীদ

সংবাদ-কর্মী

আল-আমিন এম তাওহীদ,

ভোলানিউজ.কম,

১৯জুন-২০১৭ইং শনিবার,

যখন তোমার চাউল গুড়া করতে কেউ ছিলো না, তখন ছিলাম ঢেকিঁ আমি।

এখন তোমার ডিজিটাল মেশিন হয়েছে, পর হয়ে গিয়াছি আমি ।

মেহমান আসছে, অতিত আসছে।পিঠা বানিয়ে না খাওয়ালে বাড়িতে যেয়ে বদনাম বলতে পারে। অনেক আগের কথা তেমন একটা আধুনিক মেশিন ছিলো না। গ্রামের গৃহবধুরা সবাই মিলে এক সাথে গল্প আর ঢেকিঁপাড়ে দিন চলে যেতো।

‘আজ সেই স্মৃতির পাতা রয়েছে গেছে’, নেই সেই গ্রামগঞ্জের ঢেকিঁপাড়।মিলন মেলা হচ্ছে না আর ৫ বাড়ির গৃহবধুদের। রং তামাশা আর হচ্ছে না চাউল গুড়া ঢেকিঁতে হচ্ছে নাভ

আধুনিক যান্ত্রিকতার ছোঁয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামগঞ্জের বেশ কিছু ঐতিহ্যবাহী কৃষি ও গৃহস্থালি সামগ্রি। এক সময় কৃষাণ-কৃষাণীদের ভালো মানের চাল তৈরি করার প্রধান মাধ্যম ছিল কাঠের ঢেঁকি। কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে ঢেঁকির ছন্দময় শব্দ। গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি আজ প্রায় বিলুপ্তির পথে।

গ্রামেগঞ্জে এখন পুরোপুরি যান্ত্রিক ঢেউ লাগায় কৃষকদের বাড়ি থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। আধুনিকতার ছোঁয়ায় দিন দিন ঢেঁকির কদর কমছে। হাতেগোনা দু’একজন কৃষকের বাড়িতে কাঠের তৈরি প্রাচীনতম ঢেঁকি এখনও চোখে পড়ে। ধান, চাল, আটা ও চিড়া ভাঙ্গানোর জন্য বৈদ্যুতিক মিল হওয়ার কারণে গ্রামীণ কৃষকরা স্বল্প সময়ে অল্প খরচে ভাঙ্গাতে পারছে। প্রবাদ বাক্য রয়েছে ‘ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান বানে।’

কালের পরিবর্তনে আস্তে আস্তে ঢেঁকির কদর কমে গেলেও পৌষ মাসে আত্মীয়স্বজনদের আপ্যায়নের ধূম পড়ে। শীতের সময় চাল থেকে আটা তৈরির জন্য কাঠের ঢেঁকির কদর বেড়ে যায়। মা-বোনদের কাছে এই আটা দিয়ে পিঠা তৈরিতে কোন বেদ পেতে হয় না। পাকা বাড়িঘর তৈরি বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক বাড়িতে ঢেঁকি রাখার জায়গা থাকছে না। নানা কারণে শত বছরের ঐতিহ্য কাঠের ঢেঁকি এখন হারিয়ে যাচ্ছে। এক সময় হয়তো আর কারও চোখে পড়বে না গ্রামবাংলার এই ঐতিহ্য।

আল-আমিন এম তাওহীদ ভোলা……………….