ভোলার উপকূলের মানুষ ত্রাণ চায় না, টেকসই বেড়িবাঁধ চায়- দাবীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

আল-আমিন এম তাওহীদ,

ভোলানিউজ.কম,

১৯-৬-২০১৭ইং সোমবার,

দ্বীপ জেলা ভোলার মাটিতে ২০ লক্ষ মানুষের বসবাস। ভোলার চারর্দিকে রয়েছে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ মেঘনা নদী। একদিকে রয়েছে স্বো-স্বো বাতাস, অপর দিকে রয়েছে তীব্র ভাঙ্গন। মেঘনার কড়াল গ্রাসের মুখে পড়ে শত শত বসত বাড়ি আজ নদী পথে বিলীন হয়ে পথহারা পথিক হয়ে দিন কাটাচ্ছেন মেঘনার তীরে বসবাসকারীরা।
তারই মধ্যে দেখা যায় কিছু সামাজিক সংগঠনের আকুতি-মিনতী।
উপকুরের মানুষ ত্রাণ চায় না, টেকসই বেড়িবাঁধ চায়। উপকূলের জমি ও মানুষের সুরক্ষায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবীতে সোমবার সকাল ১১টার দিকে ভোলা প্রেসক্লাবের সামনে কোস্ট-ট্রাস্ট সংস্থার উদ্যোগে ভোলা জেলার বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের উপস্থিততে এক বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উক্ত মানববন্ধনে যে সকল সংগঠন ও অংশ গ্রহণকারীরা হলেন , কোস্ট ট্রাস্ট, দ্বীপ উন্নয়ন সোসাইটি, পরিবার উন্নয়ন সংস্থা, গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা, পল্লী সেবা সংস্থা, হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডারস ফোরাম প্রমূখ।
এসময় মানববন্ধনে বক্তরা বলেন, সম্প্রতি বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নি¤œচাপের প্রভাবে ১০জুন হতে একটানা তিন দিনের বর্ষণে জেলার প্রায় ৪৫ হাজার মানুষ পানি বন্দির খবর পাওয়া গেছে। ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের চৌমুহনি পয়েন্টে ৩’শ মিটার বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে ৮ গ্রামের বসতবাড়ি এবং পুকুরের মাছ ও মাঠের ফসল তলিয়ে যায়।
অপর দিকে মনপুরা হাজীরহাট ইউনিয়নে কুলাগাজির তালুক, ঈশ্বরগঞ্জ, কাউয়ারটেক, আন্দিরপাড় গ্রাম, দাসেরহাট, সোনারচর, চরযাতিন গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। গত ১৯ শে এপ্রিল উল্লিখিত স্থান সমূহ জরুরী ভিত্তিতে সংস্কারের দাবী জানানো হয় ভোলা সদর রোড আয়োজিত মানববন্ধনে।
এদিকে স্থানীয়রা মনে করেন, তাৎক্ষনিক পানি উন্নয়ন বোর্ড কোন পদক্ষেপ না করায় আজ এ ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে।
১.ভোলা ও মনপুরার মানুষের চলমান ঝুকিঁ:
ভোলা সদরের ধনিয়া, ইলিশা, কাচিয়া, রাজাপুরে ৮ কি:মি:,
২. দৌলতখানে ভবানীপুর, সৈয়দপুরে ৪কি:কি:
চরফ্যাশনের মুজিব নগর ইউনিয়নে ১কি:মি, বোয়ালখারী বাজারের উত্তর এবং দক্ষিণে ৩ কি:মি:, নজরুল নগর ইউনিয়নে ১.৫ কি:মি: ।
৩. ভোলা মনপুরা উপজেলার সদর ইউনিয়ন, এবং হাজীরহাটের আংশিক জাফর চৌধুরীর মৎস্য সংলগ্ন বেড়িবাধ ঝুকিঁপূর্ণ রয়েছে, ঈশ্বরগঞ্জ ২কি: মি:, সাকুচিয়া ১.১৬ কি:মি:, দক্ষিণ সাকুচিয়া ১কি:মি:।
৪. ভোলা লালমোহন উপজেলার, ধলীগর নগর এবং লর্ডহার্ডিঞ্জসহ ১১কি:মি: বেড়িবাঁধ সম্পূর্ণ অরিক্ষত।

ভোলা জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, এসকল বেড়ি বাঁধের উপরিভাগ ১৪ ফুট থাকার কথা, অথচ কোথাও কোথাও তা রয়েছে মাত্র ২-৩ ফুটে। ভোলা দৌলতখানের চকিঘাটায় ১.৫ কি:মি” বেড়ীবাঁধ ভংংকর বিপদজনক যে কোন সময় জলোচ্ছাসে বেড়ীবাঁধ ভেঙ্গে দৌলতখান পৌরসভা, হাসপাতাল ও থানা সহ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে প্রতি কি:মি: বেড়ীবাঁধ সংস্কারে ৪০ লাক্ষ টাকার প্রয়োজন। বর্ষা মৌসুমের আগে বেড়ীবাঁধ মেরামত না হলে ঝুকিঁপূর্ন এলাকায় ব্যাপক ভাঙ্গনসহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে।

সম্প্রতি প্রতি বছরই বড় বড় ঘূর্নিঝড়ের সৃষ্টি হচ্ছে। মানুষের সচেতনাতা এবং সক্ষমতা কারন মানুষের প্রাণহানি কমলেও প্রাণী সম্পদ ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। এসকল ক্ষতি থেকে রক্ষার জন্য স্থায়ী বেড়ীবাঁধের বিকল্প নেই।
মানববন্ধন শেষে ভোলা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও কর্মকর্তারা বলেন, এসকল ক্ষতি থেকে রক্ষার জন্য স্থায়ী বেড়ীবাঁধ নির্মাণ করতে হবে। তা টেকসই হতে হবে এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দিয়ে এ বেড়ীবাঁধ বাস্তবায়ন করতে হবে। তাই আমরা উপকূলীয় এনজিও জোটের ব্যানারে ভোলা ও মনপুরা দ্বীপের ঝূকিঁপূর্ণ জনগণের পক্ষ থেকে নিচে দাবীসমূহ তুলে ধরছি।

ক. ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন: প্রবল স্্েরাত, নদীর গভিরতা এবং বিশাল জলরাশি প্রবাহের কারণে নদীভাংগন রোধ করা কঠিন হলেও অসম্ভব নয়।
খ. পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং টেন্ডারিং প্রক্রিয়ায় সচ্ছতা প্রতিষ্ঠা ও সিস্টেম লস কমানো।
গ. সেনাবাহিনীকে কাজে যুক্ত করণ।
ঘ. জন অংশগ্রহণ সুযোগ রাখা।
ঙ. চলমান কর্মকান্ড বিষয়ে সকল তথ্য জনগণের প্রকাশ ও প্রচার করার ব্যবস্থা এবং অভিযোগ ব্যবস্থা সুযোগ নিশ্চিত করা।
চ. পানি উন্নয়ন বোর্ডে দায়িত্বপ্রাপ্তদের জনমূখী মনোভাব গড়ে তোলা এবং জেলা পরিষদ এবং স্থানীয় সরকার এর নিক জবাবদিহি করার ব্যবস্থা করা।
ছ. সর্বপরি “নদীভাংগন ও প্লাবন রোধ” উন্নয়ন পরিকল্পনার কেন্দ্র বিন্দুতে বিবেচনা করতে হবে এবং আগামি ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের বাজেটে এজন্য পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ দিতে হবে।

বক্তরা আরো বলেন, স্থায়ী সমাধানের জন্য রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের স্ব-উদ্যোগী মনোভাব বেশী প্রয়োজন। প্রকৃতিক সম্পদে ভরা, কৃষি ফসলের আধার. দেশের মৎস্য সম্পদেও অন্যতম সরবাহকারী ও ২০ লক্স জনগণের আবাস ভুমি উপক’লীয় জেলা ভোলা এবং এর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরাকে সুরক্ষায় স্থায়ী বেড়ীবাঁধ নির্মাণের বিকল্প নেই।
মানব-বন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন শেষে, উপরোক্ত দাবী সমূহ বাস্তবায়নের সংশ্লিষ্ট সরকারি বিভাগ এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের কার্যকরী উদ্যোগ কামনা করছেন।

মানববন্ধনশেষে সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা রাখেন, কোস্ট ট্রাস্টের প্রকল্প সমন্বয়কারি রাশিদা বেগম, মিজানুররহমান, ভোলা জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি হোসনে আরা বেগম চিনু, আঙ্গীনা মহিলাসমিতির নির্বাহি পরিচালক বিলকিছ জাহান মুনমুন, হিউম্যান রাইট্স ডিফেন্ডারস ফোরামের সম্পাদকমোঃ হোসেন, ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি নুরুল ইসলাম, মোঃ এরশাদ প্রমূখ। পরে ভোলা প্রেসক্লাবেএক সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, সম্প্র্রতি বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্মচাপের প্রভাবে ১০ জুন থেকে তিনদিনের টানা বর্ষণে উপকূলীয় এ জেলায় প্রায় অর্ধ লাখ মানুষ পানিবন্দি ছিল। তজুমদ্দিন ও মনপুরায়বেড়িবাঁধ ভেঙে এ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে উপকূলের জমি ও মানুষের সুরক্ষায় টেকসই বেড়িবাঁধনির্মান জরুরী। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কোস্ট ট্রাস্টের প্রকল্প সমন্বয়কারি রাশিদাবেগম প্রমুখ।