তজুমদ্দিনে মন্দির-মালিকানা সীমানা বিরোধ, বিশৃংখলার আশংকা

তজুমদ্দিন প্রতিনিধি,

ভোলানিউজ.কম,

২৫মার্চ-০৩-২০১৭ইং শনিবার,

ভোলার তজুমদ্দিনে কালীঘর মন্দির ও দোকান মালিকানার জমির সীমানা নিয়ে বিরোধ দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় হিন্দু সম্প্রদায় ও বাজার ব্যবসায়ী পরস্পর বিরোধী বক্তব্য প্রদান করায় বিশৃংখলার আশংকা দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে হিন্দু ধর্মালম্ভীরা বাজারে মিছিল ও মানববন্ধন করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা চেয়ারম্যানের কাছে স্বারক লিপি প্রদান করেছেন। সুত্র মতে জানাগেছে , তজুমদ্দিন উপজেলার শশীগঞ্জ মৌজার জেএল ৪৭ এর ১০৫৯ নং খতিয়ানে ৪৪৭১ দাগে ০৩ শতাংশ এবং ৪৪৭২ দাগে ১৭ শতাংশ খাস জমি কালীঘর (মন্দির) নামে খতিয়ান ভুক্ত রয়েছে। সরকারী ফজিলাতুন্নেসা বালিকা বিদ্যালয় ডোবা ভরাট করে বাউন্ডারি দেয়াল টেনে এর মধ্য থেকে ৪৪৭২ দাগের ১৫/১৬ শতাংশ জমি দখলে নিয়ে নেয়। ৪৪৭১ দাগের ০৩ শতাংশ জমির উপর বিদ্যমান থাকে কালীঘর মন্দির। মন্দির সংলগ্ন দক্ষিন পাশেই ৪৪৭০ দাগে বাজারের মালিকানা জমিতে টিন সিডের দোকান নির্মান করে ১৯৭২ সাল থেকে ঘর ভাড়া দিয়ে আসছেন আলী হায়দার চৌধুরী গং। এ জমিতেই চৌধুরীর সহোদর এ্যাডভোকেট মোজাম্মেল হক কুট্রি মিয়া টিন সিড ঘর ভেঙ্গে পাকা দেয়াল তৈরী করে দোকান নির্মান করছিলেন। হিন্দু সম্প্রদায় লোকেদের দাবী কুট্রি মিয়া দেয়াল নির্মান করার সময় মন্দিরের ২/৩ ফুট জায়গা দখল করে নিয়েছেন। এনিয়েই শুরু হয় পরস্পর বিরোধী বক্তব্য। দেখা দেয় উত্তেজনা ও বিশৃংখলা। বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী অসিম কুমার বর্ণিক বলেন, মন্দির কমিটির সাথে যোগাযোগ না করে তারা ঘরের দেয়াল নির্মান করেছে। বাজার ব্যবসায়ী হিন্দু নেতা বিমল চন্দ্র দে জানান, সরকারী আমিন দিয়ে সঠিক ভাবে মাপঝোপ করে মন্দিরের সীমানা নির্ধারন করা হোক। মন্দির কমিটির সম্পাদক দীলিপ চন্দ্র সরকার জানান, দুই দাগে ২০ শতক জমি ছিল। বালিকা বিদ্যালয় ১৫/১৬ শতক জমি দখলে নিয়ে গেছে। ৪৪৭১ দাগে মন্দিরের ০৩ শতক জমির পুরোটা বুজ নাই। জমির দক্ষিন সীমানা নির্ধারন করা হোক। মন্দির কমিটির সভাপতি ধীরেন্দ্র চন্দ্র শীল জানান, ৪৪৭০ দাগের পক্ষগন ৭১ দাগের কালীঘরের জমিতে ডুকে পড়েছে। সীমানা নিধারনের জন্য উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাছে আবেদন করা হয়েছে। অভিযোগ অস্বীকার করে এ্যাডভোকেট মোজাম্মেল হক কুট্রি মিয়া বলেন, ১৯৭২ সালে হিন্দু নেতা সুরেন্দ্র মোহন দে একই অবিযোগ এনে তজুমদ্দিন থানা ও মহকুমা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত ভোলায় দরখাস্ত আনয়ন করেন। প্রতিবেদন দেখিয়ে বলেন তদন্তে তা মিথ্যা প্রমানিত হয়। সেই থেকে ৪৫ বছর যাবত টিন সিডের দোকান ঘর বাড়া দিয়ে আসছি। তা ভেঙ্গে নতুন করে পাকাকরন কাজ চলছিল। কাজের বেশী অংশ শেষ হওয়ার পর সেই পুরানো কাহিনী আবার নতুন রুপে শুরু হয়েছে। মাপঝোপ করে তার মধ্যে মন্দিরের জমি পাওয়া গেলে তা ছেড়ে দেয়ার কথাও জানান তিনি। তজুমদ্দিন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী ভূমি কমিশনার জালালউদ্দিন জানান, স্বাধীনতা দিবসের কর্মসুচি শেষ হওয়ার পর সার্ভেয়ার দিয়ে মন্দিরের জমির সীমানা নির্ধারন করে দেয়া হবে। এদিকে বড় ধরনের বিশৃংখলা ঘটার আগেই বিষয়টি দ্রুত মিমাংশা করা দাবী জানিয়েছেন শান্তিকামী জনতা।