মনপুরার ওয়াটারলড আলাউদ্দিন চেয়ারম্যানকে মুক্ত করতে হিন্দুদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে মানব-বন্ধনে আনছে, সভাপতি শান্ত ঘোষ

বিশেষ প্রতিনিধিঃ,

ভোলানিউজ.কম,

০৬-০৩-২০১৭ইং সোমবার,

ভোলা সদর উপজেলার পূজা কমিটির সভাপতি শান্ত ঘোষ বলেছেন মনপুরার ভুমিদূস্য আলাউদ্দিন চেয়ারম্যানকে জেল থেকে মুক্ত  করতে মনপুরার হিন্দুদেরকে জমি দখলের ভয়-ভীতি দেখিয়ে  ভুমিদুস্য আলাউদ্দিনের ক্যাডার বাহিনী রবিবার প্রেসক্লাবের  সামনে মানব-বন্ধনে উপস্থিত করেছেন বলে এক খোলা মেলা আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

এবিষয়ে ভোলা জেলা পূজা উদযাপন কমিটির জেলা সভাপতি গৌরাঙ্গ চন্দ্র দে তার কাছে জানতে চাইলে তিনিও একই  মন্তব্য  একই কথা বলেন।
ভোলার মনপুরা উপজেলার মনপুরা ইউনিয়রে বহুল আলোচিত চেয়ারম্যান মো: আলাউদ্দিনকে সংখ্যালঘুদের জমি দখল,পুলিশের উপর হামলা ও জলদস্যুতার অভিযোগ গ্রেফতারের পর এবার মুক্তির জন্য তার ভাড়াটে লোকজন দিয়ে ভোলা সদরে বিশাল মানববন্ধন করেছে। রবিবার দুপুরে ভোলা প্রেসক্লাবের সামনে মনপুরা থেকে আনা হিন্দুসহ বিভিন্ন শ্রেনীর সহস¯্রধিক লোক এ মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেছে। প্রায় ঘন্টা ব্যাপী মানববন্ধন শেষে ওই চেয়ারম্যানের মুক্তির দাবিতে তার সমর্থকরা ভোলা প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করেছে। এ ঘটনাটি শহরে টক অব দ্যা টাউনে পরিনত হয়েছে।
ভোলা প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলনে মনপুরা ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক দিপক চন্দ্র দাস মাষ্টার লিখিত বক্তব্যে বলেন, আলাউদ্দিন চেয়ারম্যান মনপুরার কোন হিন্দুদের জমি দখল করেনি। মনপুরা কলাতলি এলাকার শঙ্কর বিজয় দাস,ননী গোপাল দাস ও ভবশে চন্দ্র মজুমদারসহ কয়েক জন সন্ত্রাসী এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে।তার ২০০১৪ সনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিকট থেকে জমি বরাদ্ধ দেওয়ার কথা বলে ২০/৩০ হাজার টাকা আদায় করে কিন্তু কোন জমি দেয়নি। উল্টো অত্যাচার করায় বাবু বিধু ভূষন দাস বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করে। ্এতে করে বিধু ভূষন দাস কে ওই চক্র হুমকি দিলে তাকে আলাউদ্দিন চেয়ারম্যান সহায়তার করে। তাই আলাউদ্দিন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ক্ষিপ্ত হয়ে ঢাকায় হিন্দু বৌদ্দ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ সাংবাদিক সম্মেলন করে। তারা আরো বলেন রাজনৈতিক কারনে মিথ্যা মামলা দিয়ে আলাউদ্দিন ও তার ভাই ফরহাদকে পুলিশ মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করে।
অপর দিকে এলাকার ইউপি সদস্য আলমগীর জানান, তিনি আসন্ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ায় তাকে ফাঁসাতে জেলে বহে চক্রান্ত করেছে এই ভূমি দস্যু আলমগীর। তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলছে।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, আলাউদ্দিন চেয়ারম্যান তার নানা অপকর্মের পর অবশেষে গ্রেফতার হলে এলাকায় তার নানা অত্যাচার নির্যাতনের কাহিনী বের হয়ে আসতে শুরু করেছে। আসন্ন মনপুরা ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের পূর্বে হঠাৎ করে গ্রেফতার হওয়ায় তার লোকজন বিশাল এই মানববন্ধন করেছে। অভিযোগ রয়েছে,১২টি ট্রলার,স্পিড বোট যোগে মনপুরা থেকে মানুষ আনা হয়। এদের জন্য ভোলা শহরের ষ্টেডিয়াম এলাকায় রাতভার ভূড়ি ভোজের আয়োজন চলে।
অভিযোগ রয়েছে,২০০৮ সালে মনপুরা যুবদলের সিনিয়র সহ সভাপতি আলাউদ্দিন ভোল পাল্টে আওয়ামী লীগে যোগ দেয়। তার পর এলাকায় সংখ্যালঘুদের প্রায় দের হাজার একর জমি দখল করে। কলাতলিতে সরকারি প্রায়৪ হাজার খাস জমি তিনি বিভিন্ন লোকজনের কাছে একাধিক বার বিক্রি করে। তার চার ভাইয়ের নামে বাজার করে। সেখানে প্রায় ২ শত ভিটা রয়েছে। যার প্রতিটি লাখ টাকার বিনিময় বিক্রি করে। তার বিরুদ্ধে অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় ইলিয়াস নামে এক যুবকের পা ভেঙ্গে পঙ্গু করে দেয়। মাত্র ২০ শতাংশ জমির জন্য সুদাংশ নামে এক স্কুল শিক্ষককে প্রক্যাশ্যে পাকা রাস্তায় গলায় দড়ি দিয়ে টেনে হেচড়ে নির্যাতন চালায়। আর নামে বেনামে গড়ে তুলে ঢাকায় ভোলা সদর সহ বিভিন্ন স্থানে বিশাল অট্রালিকা,ফ্যাাটসহ বিভিন্ন সম্পদ। ঢাকায় রয়েছে ২ বাসসহ অনেক সম্পদ। অথচ চেয়ারম্যান হওয়ার আগে তার এ সব কিছুই ছিলো না।
এদিকে সাংবাদিক সম্মেলনে তার এসব বিষয়ে জানতে চাইলে তারা কোন সদউত্তর দিতে পারেনি।

ভোলানিউজ.কম,