ভোলা মনপুরায় ব্যবসায়ী পুলিশ ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, আহত ৩০

আল-আমিন এম তাওহীদ,

ভোলানিউজ.কম,

ফেব্রুঃ ২২-০২-২০১৭ইং বুধবার,

ভোলার মনপুরায় রাস্তার ওপর ফলের দোকান সরানোকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীদ ও পুলিশের সাথে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের সময় পুলিশের কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এ সংঘর্ষে ব্যবসায়ী ও পুলিশসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছে । আহতদেরকে উদ্ধার করে মনপুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বুধবার সকাল সাড়ে ৯ টায় উপজেলার হাজির হাট বাজারে ঘন্টাব্যাপী পুলিশ ও ব্যবসায়ী দুই গ্রুপের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে ১১.৩০ টায় স্থানীয় নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।এতে ব্যবসায়ীরা ক্ষিপ্ত হয়ে দোকান পাঠ বন্ধ করে দেয়। বর্তমানে পরিস্থিতি থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা যায়, হাজিরহাট বাজারের ফলের ব্যবসায়ী হারুন, আবদুর রহমান ও হাসানের দোকান উচ্ছেদ ও ব্যবসায়ীদের মারধর করে পুলিশের ওসি শাহীন খান। পরে ব্যবসায়ীরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাৎক্ষনিক দোকানপাট বন্ধ রেখে পুলিশের বিরুদ্ধে মিছিল বের করে। একপর্যায়ে পুলিশ ক্ষিপ্ত হয়ে ব্যবসায়ীদের উপর কয়েক রাউন্ড শর্টগানের ফাঁকা গুলি ছোড়ে এসময় ব্যবসায়ীরা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে।পুলিশের গুলিতে স্থানীয়,ব্যবসায়ীসহ প্রায় ৩০ জন আহত হয় এবং ব্যবসায়ীদের ইট-পাটকেল নিক্ষেপে ৭ পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হয়।
পুলিশের শর্টগানের গুলিতে আহতরা হলেন, ব্যবসায়ী সোয়েব, মোঃ ইব্রাহীম, আবু তাহের, শরিফ, নুরুউদ্দিন, তরিকুল ইসলাম, আরিফ, হারুন, কবির, নাহিদ, হারুন, রাকিব, হোসেন, লিটন ফরাজী, মোসলেহ উদ্দিন, জামাল নুরুউদ্দিন, নুরইসলাম, কুটি মাঝি, আবদুর রহমানসহ আরো বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। অপরদিকে ইট-পাটকেল নিক্ষেপে আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন, ওসি শাহীন খান, এএসআই প্রদীপ, পুলিশ সদস্য জুনায়েদ, আরিফ, জসিম, আবদুল হালিম, নাইম।
বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক মোঃ মহিউদ্দিন জানান, বিনা নোটিশে পুলিশ তিন ব্যবসায়ীর ফলের দোকান উচ্ছেদ করার সময় মারধরের ঘটনায় ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ রেখে মিছিল করে। পরে পুলিশ বিনা উসকানিতে ব্যবসায়ীদের উপর বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি করে। এতে অর্ধশতাধিক ব্যবসায়ী আহত হয়।
মনপুরা থানার ওসি শাহীন খান জানান, রাস্তার উপর ফলের দোকান উঠাতে যাই। পরে ব্যবসায়ীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই।

মনপুরা স্বাস্থ্য ও পপ কর্মকর্তা ডা. মাহমুদুর রশীদ বলেন, হাসাপাতালে ৩৪ চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে গুরুতর ২ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠানো হয়েছে।
এব্যাপারে সহকারী পুলিশ সুপার (লালমোহন সার্কেল) মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন,অবৈধভাবে বাজারে রাস্তা দখল করে ফল ব্যাবসায়ীরা ব্যাবসা করে আসছেন। ওসি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে গেলে ব্যাবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ পরিস্তিতি নিয়ন্ত্রন আনার জন্য ফাঁকা গুলি ছোড়ে। বর্তমানে পরিস্তিতি নিয়ন্ত্রনে আছে। আমরা ব্যাবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে  সার্বিক বিষয় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করব। উর্ধ্বতন কর্তপক্ষের সাথে আলাপ করে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে বলে তিনি জানান।

আল/এম ভোলানিউজ.কম,