মাদ্রাসা গুড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় জমিয়তের নিন্দা ও ক্ষোভ

DSC04977

ভোলা নিউজ ডেস্ক:  ভোলায় মাদ্রাসা ভেঙ্গে মাটিতে  মিশিয়ে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করলেও মুল আসামিরা ধরাছোয়ার বাহিরে রয়ে গেছে  এতে  করে দুইশ এর  অধিক ছাত্রছাত্রীর শিক্ষাজীবন অনিশ্চয়তার মধ্যে পরেছে। এ ঘটনায় নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়েছেন বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদাররেছিনসহ ধর্মীয় বিভিন্ন  সংগঠনের নেতারা আজ বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদাররেছিনের ভোলা শাখার সভাপতি আব্দুল লতিফ ক্ষোভ জানিয়ে অভিলম্বে ভাংচুরের সাথে জড়িত মুলহোতাদের গ্রেপ্তারের  দাবি  জানিয়েছেন।  নচেৎ বড় ধরনের আন্দোলনে যাওয়ার আল্টিমেটাম দিয়েছেন  জমিয়াতুল মোদাররেছিনের নেতারা ।
উল্লেখ্য, ২ ফেব্রুয়ারী সকাল ১০ টার দিকে ভোলা সদর উপজেলার ৩নং পশ্চিম ইলিশা মালের-হাট বালিকা  দাখিল মাদ্রাসায় সন্ত্রাসী’রা হামলা চালিয়ে ভাংচুর করেছে। এতেকরে মাদ্রাসার দুটি ভবন পুরো  ভেঙ্গে মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়েছে ঐ সন্ত্রাসীরা পারিবারিক বিরোধের জের ধরে সন্ত্রাসী  নাজিমুদ্দিনের  নেতৃত্বে  আব্দুল হাই, লিটন,খোকনসহ  ৩০-৪০ জনের একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ আচমকা হামলা চালিয়ে মাদ্রাসাটি  ভাংচুর করেন।এ  সময় সন্ত্রাসীরা মাদ্রাসার পাশে থাকা বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহাম্মদের সাশুড়ির নামে প্রতিষ্ঠিত উম্মে ছালমান  আদর্শ  একাডেমীটিও ভাংচুর করে
সরে জমিন সূত্রে জানাযায়, মাওলানা মোঃ মহসিন ১৯৯৮ সালে মালের হাট বালিকা মাদ্রাসা ও উম্মে সালমান আদর্শ একাডেমী  প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে  ১৮ বছর নিরবিচ্ছন্নভাবে প্রতিষ্ঠানটি চলে আসলেও ওই এলাকার একটি কু-চক্র মহল বিভিন্ন সময়ে মাদ্রাসা ও আদর্শ একাডেমী’র  বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চালিয়ে আসছিলেন বলেও বিশ্বস্তসূত্রে জানা যায়। গতকাল মাদ্রাসার দাখিল পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে মাদ্রাসার শিক্ষকরা পরীক্ষাকেন্দ্রে থাকায় সন্ত্রাসীরা সুযোগ বুজে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছেন মাদ্রাসার সুপারসহ  স্থানীয়রা ।
মাদ্রাসার সুপার মহসিন  আরও জানান তিনি ১৯৯৮ সালে তার নিজ ভোগ দখলীয় সম্পত্তি ৯৩ শতাংশ জমি বালিকা মাদ্রাসা ও উম্মে সালমান একাডেমীর নামে রেজেষ্ট্রি দলিল দেন। এরপর থেকে  দীর্ঘ ১৮ বছর ঐ জমিতে মাদ্রাসা ও কিন্টার গার্ডেন একাডেমী পরিচালিত  হয়ে আসছিল।  সরকার ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠানটিকে স্বীকৃতি দিলে  লক্ষ লক্ষ টাকার সরকারী অনুদানে  মাঠ ভরাট ও মাদ্রার ভবন নির্মান করা হয়। গত ১বছর  যাবৎ একদল সন্ত্রাসী মাদ্রাসার  জমি দখলের চেষ্টা করে ও দখল করতে না  পেরে গতকাল ২ ফেব্রুয়ারী সুযোগবুজে মাদ্রাসাটি মাটির সাথে গুড়িয়ে দেয়। এঘটনায় ভোলা সদর থানার  ওসি তাৎক্ষনিক ইলিশা পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের আইসি শহিদুল ইসলাম কে দিয়ে অভিযান চালিয়ে সন্ত্রাসী আব্দুল হাইকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসেন।
এঘটনায় ভোলার শিক্ষক সমাজ ও মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতি বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদারেছিন গভির উদ্ভেগ ও নিন্দা প্রকাশ  করেছেন। জমিয়াতরে ভোলা শাখার সভাপতি আব্দুল লতিফ জানান মাদ্রাসা ভাংচুর করে  সন্ত্রাসীরা বাংলাদেশের কোটি  মুসলমানদেও হৃদয়ে আঘাত করেছে।  আমরা তাদের বিরুদ্ধে সকল প্রকার আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করব এবং আমাদের পরবর্তী কর্মসূচী ঘোষনা  করব। তিনি আরো  জানান, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে  সন্ত্রাস দমন, ভাংচুর ও ধর্মীয় অনুবোতিতে আঘাত আইনে মামলার  প্রস্তুতি চলছে।