কোষ্টগার্ড ম্যানেজ করেই চলছে বৈশাখের ইলিশ মজুদ

1

এইচ এম জাকির, ভোলা \ পহেলা বৈশাখ যতই এগিয়ে আসছে ইলিশের দাম ততই বাড়ছে। এরই মধ্যে বড় ইলিশের হালি ২৫০০ টাকা থেকে বেড়ে  ৫০০০ থেকে ৬০০০ টাকা হয়েছে। ৮শ’ গ্রাম ওজনের ইলিশের হালি বিক্রি হচ্ছে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা। সপ্তাহ খনেক আগে এর দাম ছিলো ৩ হাজার টাকা। এ হিসেবে এক সপ্তাহে প্রতি হালি ইলিশের দাম বেড়েছে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা। এদিকে বাংলার নববর্ষ পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে ভোলার মাছ ঘাট গুলোতে ইলিশের দাম কয়েক গুন বৃদ্ধি পাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। দাম বৃদ্ধি আশংঙ্কায় কেউ কেউ ইলিশ কিনে রাখলেও অধিকাংশরাই তা বুজে উঠতে পারেনি। এখন তারা চওড়া মূল্যে ইলিশ কিনে রাখছেন। তাছাড়া পহেলা মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত নদীর অভয়াশ্রম গুলোতে ইলিশ মাছসহ সকল প্রকার মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন দেশের মৎস্য বিভাগ। তবে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কিছু অসাধু জেলে নদীতে মাছ শিকার করলেও মাছের পরিমান কম হওয়ায় দাম হাকাচ্ছেন কয়েক গুন। তাছাড়া বর্তমানে নদীতেও অনেকটা ইলিশের সংকট রয়েছে। তাই বৈশাখের আগমনে সামনের দিন গুলোতে ইলিশের আরো অনেক সংকট দেখা দেবে বলে মনে করছেন মাছ ব্যবসায়ীরা। এদিকে বাংলার নববর্ষকে ঘিরে ইলিশ নিয়ে বানিজ্যে নেমেছে জেলার বিভিন্ন অঞ্চলের মৎস্য ব্যবসায়ীরা। ইতিমধ্যেই ওই সকল ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ইলিশ মজুদ করে কৃতিম সংকট তৈরি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিভিন্ন মাছঘাট সুত্রে জানা গেছে, নববর্ষের মৌসুম ধরে রাখতে জেলার শতাধিক মাছ ঘাটের আশপাশের বিভিন্ন বাসা বাড়িতে বরফ দিয়ে ইলিশ মজুদ করা হচ্ছে। এ অবস্থায় ইলিশের নির্ধারিত দামের চেয়ে তিন থেকে চার গুন বৃদ্ধি পেয়েছে। ভোলার ইলিশা  ঘাটের মাছ ব্যবসায়ী ইব্রাহিম খলিল জানান, এখানকার প্রভাবশালী মাছ ব্যবসায়ীরা বৈশাখকে সামনে রেখে বিভিন্ন গোপন জায়গায় বরফ দিয়ে ইলিশ মজুদ করছেন। জেলেদের কাছ থেকে অল্প দামে ক্রয় করে পরবর্তিতে তা চওড়া মূল্যে বিক্রি করবেন। দৌলখান উপজেলার চকিদার ঘাট এলাকার ইউছুফ মাঝি বলেন, নদীতে অভিযান থাকলেও আমরা গোপনে চুরি করে ইলিশ মাছ ধরে ঘাটে এনে বিক্রি করি। আমরা এক একটি মাছ বিক্রিতে যে দাম পাই তার তিন থেকে চারগুন বেশি দামে ঘাটের মহাজনরা এ মাছ অন্যত্র বিক্রি করছে। রফিক মাঝি বলেন, মহাজনরা আমাদেরকে দাদন দেয়ায় আমরা মাছ ধরে তাদের কাছেই বিক্রি করতে হয়। তাই তারা যে দাম নির্ধারন করে সে দামেই আমাদেরকে মাছ বিক্রি করতে হয়। অন্যদিকে ভোলার ইলিশের বড় অংশ সড়িয়ে দেয়া হচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। অধিক মুনাফা লাভের 3আশায়ই এমনটি করছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। অভিযোগ রয়েছে, কোস্টগার্ড ও পুলিশ প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই নর্ববর্ষের ইলিশ মজুদ করে বেশী মুনাফা বানিজ্যে নেমেছেন ব্যবসায়ীরা। মেঘনার বিভিন্ন মাছ ঘাট ঘুরে দেখা গেছে দেধাড়ছে ইলিশ কেনা-বেচা চলছে। দেখে মনে হচ্ছে এ সকল ঘাট গুলোতে অভিযানের কোন বালাই-ই নেই। ভোলার খাল নামক মাছ ঘাট এলাকার ব্যবসায়ী জাকির হোসেন জানান, নদীতে অভিযান থাকলেও এখানে মাছ কেনা-বেচা করতে কোন বাধা নেই। দু-এক সময় প্রশাসনের লোকজন আসলেও আগেবাগেই আমরা খবর পেয়ে যাই। ইলিশা বিশ্বরোড মাছ ঘাটের মাছ ব্যবসায়ী মহিউদ্দিন মিয়া জানান, নদীতে ইলিশের পরিমান কিছুটা কম। এরপর আবার অভিযান, জেলেরা চুরি করে মাছ ধরলেও তা আমাদেরকে চওড়া মূল্যে ক্রয় করতে হয়। দেখা গেছে, ১ কেজির উপরের ইলিশের পরিমান অনেকটা কম হলেও মন প্রতি বিক্রি হচ্ছে ১ থেকে লাখ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দরে। অবশ্য বৈশাখের আগের দিনে তা দেড় লাখ টাকারও বেশি ছাড়িয়ে যেতে পারে। এছাড়া জাটকা ইলিশেরও চাহিদা কোন অংশে কম নয়। ১০ ইঞ্চির নিচের জাটকা ইলিশও হালি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৪’শ থেকে ৫’শ টাকায়। মাঝারি ইলিশ অর্থ্যাৎ ৫০০ গ্রামের ইলিশের হালি আড়াই থেকে সাড়েতিন হাজার টাকায়। এক দিকে নদীতে অভিযান অপরদিকে ইলিশ সংকট এর সাথে যোগ হয়েছে পহেলা বৈশাখ তাই ইলিশের বাজার আগুন। বৈশাখ প্রেমীরা বলেন, পহেলা বৈশাখে পান্থা ইলিশ বাঙ্গালীর জীবনের ঐতিহ্য। এটি ছাড়া বৈশাখ উদযাপন মোটেও সম্ভব না। সংগিত শিল্পী সাংবাদিক এইচ এম জাকির বলেন, বৈশাখ উৎযাপনে সরকারের উচিত এক সপ্তাহ নদীতে অভিযান শিথিল করা। এতে করে ইলিশ মাছ দেশের প্রতিটি মানুষের কিছুটা ক্রয় ÿমতার মধ্যে থাকবে। জেলার রাজনীতিবিদদের মুখেও একই কথা। জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ও জেলা মৎস লীগের সভাপতি জহুরুল ইসলাম  নকিব বলেন, একদিকে পহেলা বৈশাখ অপরদিকে নদীতে অভিযান। তাই মাছের পরিমান অন্যান্য দিনের তুলনায় অনেকটা কম। তাই মাছ ঘাট গুলোতে ইলিশের দেখা মিললেও তা সাধারণ মানুষের ক্রয় ÿমতার বাহিরে।  দেশের প্রতিটি মানুষ বৈশাখের আনন্দ উদযাপন করতে সরকারের উচিৎ এক সপ্তাহ হলেও নদীতে অভিযান শিথিল করা। এতেকরে জেলেরা নির্ভিগ্নে নদীতে ইলিশ আহরন করতে পারবে দামও মানুষের ক্রয় ÿমতার মধ্যে চলে আসবে এমনটি অভিমনত ব্যক্ত করেন তিনি। এ ব্যপারে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ রেজাউল করিম বলেন, পহেলা বৈশাখ উদযাপন বাঙালীর জীবনের যতটুকু গুরুত্ব তার চেয়ে বেশি গুরুত্ব বহন করে দেশের মৎস্য সম্পদ রÿা করা। তাই ইলিশ সংরÿণ সহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের প্রজনন বৃদ্ধির লÿে ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল এ দু-মাস মেঘনা তেতুলীয়ার ১৯০ কিলোমিটার এলাকার অভয়াশ্রম গুলোতে সকল প্রকার জাল ফেলা মাছ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। এই সময়টি ইলিশের পোনা বড় হওয়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ডিম ছাড়া শুরু করে। তাই নদীতে ইলিশ সংরÿণ ও অন্যান্য মাছের প্রজনন বৃদ্ধির জন্য মাছ ধরা বন্ধে সবাইকে এগিয়ে আসছে হবে।

এইচ
ভোলা।