‘জঙ্গিবাদের পেছনে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে’

moudod ahmed

অন-লাইন  ডেস্ক, ভোলা নিউজ ডট কম: দেশের অভ্যন্তরীণ জঙ্গিবাদের পেছনে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। তিনি বলেছেন, জঙ্গিবাদ কোন রাজনৈতিক সমস্যা নয় এটা একটি জাতীয় সমস্যা। এর পিছনে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে। র‌্যাব, পুলিশ দিয়ে জঙ্গিবাদ মৌলবাদ নির্মূল করা সম্ভব নয়। এর জন্য দরকার জাতীয় ঐক্য। আজ দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ (বিএসপিপি) আয়োজিত ‘সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা ও বর্তমান প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।  জঙ্গিবাদ প্রসঙ্গে মওদুদ আহমদ  বলেন, দেশে গণতন্ত্র না থাকায় জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদের উত্থান হচ্ছে। আমরা জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদকে ঘৃণা করি। মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিত, খ্রিস্টান ধর্মযাজকসহ ইতিমধ্যে ২৭টি হত্যার ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু এই সরকার এখন পর্যন্ত একটি ঘটনারও বিচার প্রক্রিয়া শুরু করতে পারেনি। অথচ সরকার নাকি জঙ্গিবাদের ব্যাপারে ‘জিরো টলারেন্স’। কিন্তু তাদের কাজ-কর্মে সেটা দেখা যাচ্ছে না। সুতরাং বলা যায়, জঙ্গি দমনে সরকারের সততার অভাব রয়েছে। জঙ্গিবাদ দমনে সরকারকে একটি প্লাটফর্ম  তৈরির আহ্বান জানিয়ে বিএনপির সিনিয়র এই নেতা বলেন, জঙ্গিবাদ দমন করতে হলে সরকারকে দু’টি কাজ করতে হবে। একটি হলো- জনপ্রতিনিধিত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠা করা। দ্বিতীয়টি হলো- জাতীয় ঐক্যের প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা। এটি করতে পারলে বিএনপিও সরকারকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে। সদ্য শেষ হওয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন প্রসঙ্গে মওদুদ আহমদ বলেন, এই নির্বাচনে ১৩২ জন মানুষের প্রাণ গেলো, হাজার হাজার লোক আহত হলো। এদের ৯৫ শতাংশই আওয়ামী লীগেরই। তাহলে এই নির্বাচনের দরকারটা কি ছিল? নির্বাচন ও গণতন্ত্র আজ সর্বনিম্ন পর্যায়ে চলে গেছে। আজ বাস্তবে কোন স্বাধীনতা নেই, যা দেশের জন্য অত্যন্ত ভয়ঙ্কর। সরকার জনগণকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করে মারাত্মক রাজনৈতিক অপরাধ করেছে। এমন নির্বাচন দরকারই ছিল না। এর চেয়ে সরকার আইন করে নিজ দলের প্রার্থীদের বিজয়ী ঘোষণা করলেই পারতো। তাহলে এত মানুষের প্রাণহানি ঘটতো না। তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৪৫ বছর পরেও দেশে আজ গণতন্ত্র ও রাজনীতি নেই। এর চেয়ে বড় বিষাদময় ঘটনা আর কি হতে পারে? পঁচাত্তর সালে সংবিধান থেকে গণতন্ত্র পুরোপুরি তুলে নিয়ে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। বর্তমানে সংবিধানে গণতন্ত্র আছে, কিন্তু বাস্তবে নেই। আগে গণতন্ত্র তুলে নিয়ে একদলীয় শাসন আর এখন গণতন্ত্রের কথা সংবিধানে রেখে দেশে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করা হয়েছে। এটি আমাদের জন্য আরো বেশি ভয়াবহ। কারণ, কাগজে-কলমে গণতন্ত্র আছে অথচ বাস্তবে তা নেই। শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের সভাপতি অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায়  বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এজেডএম জাহিদ হোসেন শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের অতিরিক্ত মহাসিচব জাকির হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।